
ছেলে আইসিইউতে, মেয়েকে ভর্তি করাতে মেঝেতে অপেক্ষা বাবার
মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অসহায় পরিবারগুলো।

মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অসহায় পরিবারগুলো।

নারায়ণগঞ্জের সায়মা আক্তারের ছয় মাসের যমজ মেয়ে খাদিজা ও ফাতেমা হামে আক্রান্ত। শিশু হাসপাতালে ভর্তির পর ফাতেমাকে ছাড় দেওয়া হয়, কিন্তু বাড়িতে ফিরে আবার অসুস্থ। শয্যা অভাবে হাসপাতালে ভর্তি সম্ভব নয়।

হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ৩২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে সরকার। এনআইসিইউসহ মোট শয্যা রয়েছে ১০৫০টি।

রুটির কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শিশু হাসপাতালে হাম নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ শিশু ভর্তি, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৪২টি। শয্যার অভাবে অনেককে ভর্তি করা যাচ্ছে না, স্বজনরা উদ্বিগ্ন। এ বছর হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯ জন মারা গেছে শিশু হাসপাতালে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন নতুন রোগী ভর্তি, চিকিৎসাধীন ২৫ জন। হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই ব্যবস্থা।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১১ দিনে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি, তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসছে, শয্যাচ্যুতি সত্ত্বেও চিকিৎসা চলছে। টিকাদানে সমস্যা এর কারণ বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।

চট্টগ্রামে হামের সন্দেহে রোগী বেড়েছে ৮০ জনে, দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চার উপজেলায় এখনো হাম কর্নার চালু হয়নি যদিও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, খোঁজ নিয়ে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা যুদ্ধ করছেন। ওয়ার্ডে শয্যা পূর্ণ, গতকাল ৭১ শিশু ভর্তি। পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুল হক সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে আদ্দ্বীন হাসপাতালে একই দিনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের হাম শনাক্ত। এ পর্যন্ত বিভাগে ৩৮৫ শিশু ভর্তি, ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বরগুনায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছেন।

হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ এপ্রিল ১০ মাসের সোহা মনি মারা যায়। মাদারীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত চার হাসপাতাল ঘুরলেও বাঁচানো যায়নি। মায়ের আক্ষেপ, হামের টিকা না পাওয়ায় মেয়ে হারালেন।