
বাংলা সাহিত্যের কয়েকটি নারীবাদী উপন্যাস
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে—ফুল্লরার বারমাস্যা, মৈমনসিংহ গীতিকার অকুতোভয় নারী চরিত্র কিংবা কালীঘাট পটে আঁকা এলোকেশী হত্যার চিত্রে—নারীর সামাজিক অবস্থান ও বঞ্চনার এক সুদীর্ঘ দেশজ ইতিহাস প্রোথিত রয়েছে।

প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে—ফুল্লরার বারমাস্যা, মৈমনসিংহ গীতিকার অকুতোভয় নারী চরিত্র কিংবা কালীঘাট পটে আঁকা এলোকেশী হত্যার চিত্রে—নারীর সামাজিক অবস্থান ও বঞ্চনার এক সুদীর্ঘ দেশজ ইতিহাস প্রোথিত রয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক কবিতার মধ্যে লিভারটভের সুনাম সীমাবদ্ধ থাকেনি; কবিতার আঙ্গিক নিয়ে তাঁর ‘অর্গানিক ফর্ম’ তত্ত্বটি আজও বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।

আমাদের সামাজিক অস্তিত্বের মধ্যে এই টানাপোড়েন, এই দোদুল্যমানতা নিহিত আছে এবং এ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।

‘বনলতা সেন’ কবিতার অন্তর্জালিক সংস্করণের তিনটিতে অনুবাদকদের সবাই কথককে মলয় উপদ্বীপের দূরবর্তী জলসীমায় সঠিকভাবেই স্থাপন করেছেন।

মাইকেল তাঁর মহাকাব্যে জীবন থেকে চরিত্র না নিয়ে বরং চরিত্রদের জীবন দান করে বিশ্বস্তভাবে অটল থাকেন হিন্দু পুরাণের জগতে।

‘বোর্হেসের অপ্রকাশিত বা অগ্রন্থিত’ শীর্ষক গ্রন্থগুলোয় যেসব রচনা আছে তার কোনোটিতেই রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক এই বক্তৃতাটি নেই।

লেনিন কেন দার্শনিকদের তালিকায় অনুপস্থিত, যদিও দর্শনচর্চা ও রাষ্ট্রচিন্তায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য?

আবুল হুসেনের প্রয়াণের পর মাসিক মোহাম্মদীতে সুফী মোতাহার হোসেনের অগ্রন্থিত নিবন্ধ ‘আবুল হুসেন’ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বর্ণিত হয়েছে আবুল হুসেনের সংগ্রামী জীবন, সাহিত্য-সাধনা ও সমাজসেবার কথা। নিবন্ধের সঙ্গে তাঁর একটি বিরল ছবি রয়েছে।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বক্তব্য ছিল—বুদ্ধির মুক্তি, তথা বিচার-বুদ্ধিকে অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তি দেওয়া। কেন?

শঙ্করের দর্শন ও কাজ শুধু হিন্দু দর্শনকে নয়, ভারতীয় চিন্তার শিকড়কে বদলে দিয়েছে। উপনিষদের মূল সুর তিনি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তা আজও আধুনিক দর্শন, মনোবিজ্ঞান, এমনকি কোয়ান্টাম দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনায় হাজির হয়। গুরু-শিষ্য পরম্পরা, মঠসংস্কৃতি, বেদান্ত শিক্ষা, সংস্কৃত ব্যাখ্যা-পদ্ধতি—সব জায়গায় তাঁর ছাপ। সংক্ষেপে বললে, মাত্র তিন দশকের জীবনে তিনি করেছেন শতাব্দীর কাজ। তাঁর চিন্তা এখনো সাগ্রহে অধীত হয়।

উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকাকে আলাদাভাবে দেখবার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি উত্তর–ঔপনিবেশিক সাহিত্যভাবনায় নজরুলকে নতুনভাবে বিবেচনারও প্রয়াস চালানো দরকার। তাঁকে খণ্ডিত করে মুসলমানের কবি বানানোর অপচেষ্টায় যারা লিপ্ত, তাদের হাত থেকে নজরুলকে রক্ষা করতে হলে আজকের নতুন প্রজন্মকে নজরুলের পাশে দাঁড়াতে হবে, নজরুলের দর্শনকে ধারণ করতে হবে মনে ও মননে।

সাদাত হাসান মান্টো উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার। দেশভাগের রক্তাক্ত বাস্তবতা, দাঙ্গার উন্মাদনা, নারীর অসহায়তা, যৌনকর্মীদের বঞ্চিত জীবন, মানুষের ভেতরের নিষ্ঠুরতা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ—এসব অন্ধকার বাস্তবতাকে তিনি কোনো ভণিতা বা রাখঢাক ছাড়াই সাহিত্যে তুলে এনেছেন।