
রাত জেগে তেলের লাইনে শত শত মানুষের অপেক্ষা
রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে শনিবার রাত থেকে শত শত মানুষ তেলের জন্য নির্ঘুম অপেক্ষায়। সরবরাহ কমলেও আতঙ্কে লাইন বাড়ছে, চালকরা হাহাকার করছেন। রবিবার সকালেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত।

রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে শনিবার রাত থেকে শত শত মানুষ তেলের জন্য নির্ঘুম অপেক্ষায়। সরবরাহ কমলেও আতঙ্কে লাইন বাড়ছে, চালকরা হাহাকার করছেন। রবিবার সকালেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত।

লোডশেডিংয়ে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, জেনারেটরের জন্য পাম্প থেকে তেল মিলছে না। তেলের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

ঈদের লম্বা ছুটির পর শিল্পকারখানা খুলেছে। ফলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে তেলের চাহিদা বেড়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ার শঙ্কা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের টানা ছুটিতে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। তবে সে তুলনায় সরবরাহ না থাকায় জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

চলতি মাসেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত কয়েক দিনে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে এসেছে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ জাহাজ। ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন’ তেল সরবরাহ করেছে। বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ফার্নেস তেলের কোনো সংকট নেই।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম জেলায় জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার। বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার লিটার।

চীন তার চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। তারা ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—এত কিছুর পরও চীনের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে বেশ স্বাভাবিক।

সরবরাহ বাড়ানো ও মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও অবৈধ মজুত বন্ধে অভিযান ও ফুয়েল পাস ভূমিকা রেখেছে। অনিশ্চয়তা কমিয়েছে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধবিরতি।

মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে তিনটি ট্যাংকে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার মজুত তেলের গরমিল ধরা পড়েছে। ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

মানিকগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটে পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, পরিবারের সদস্যরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতি বাইকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।