
বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে।

আজ শনিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় কমিটির জরুরি বৈঠকে ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন।

রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ জ্বালানি কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়ও উঠে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জ্বালানিসংকটে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সুপরিকল্পিত আমদানি, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, কড়াকড়ি মুদ্রানীতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটকে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গতকাল জ্বালানি তেলের স্থাপনা ও তেল পরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের কঠোর হুমকি সত্ত্বেও ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলো ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এ দেশগুলো কূটনীতির মাধ্যমে পথ খুঁজে নিচ্ছে। তবে চুক্তিগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকটে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য পারমাণবিক বিদ্যুতে নতুন আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নীতিগত পরিবর্তন এবং এসএমআর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে নিরাপত্তা ও বিলম্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

জাহেদ উর রহমান রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, গণমাধ্যম তথ্য, অর্থনৈতিক প্রকল্প ও নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন হয়েছে। বিভিন্ন খাতের সংস্কারের পুস্তুক তৈরি হয়েছে। এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো এখন মিউজিয়ামে রাখার সময় হয়েছে।’