
আলোচনায় পাকিস্তানে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, নারাজ ইরান
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান শনিবার হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ায় ও যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘লেনদেনা’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঠুনকো যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় সপ্তাহের হামলায় বিপর্যস্ত হলেও ইরান দরকষাকষিতে শক্ত অবস্থান দাবি করছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের বড় হাতিয়ার। যুদ্ধবিরতির পর নতুন কঠিন দাবি তুলেছে তেহরান।

মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক ৩.৩% বেড়েছে, যা দুই বছরের সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসোলিনের দাম ২১.২% উঠেছে, যা ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

কাতারএনার্জি এলএনজি উৎপাদন পুনরায় চালু করতে কাজ শুরু করেছে। রাস লাফানের কিউআইএলএনজি নর্থ ১ প্রকল্পের দুটি ট্রেন চালু হয়েছে। তবে পূর্ণ উৎপাদনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।

গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাটকীয় হুমকির পর ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহ সময় নেয়। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো ব্যর্থতার ছায়ায় হরমুজ প্রণালির কৌশল ইরানকে শক্তিশালী করেছে। ট্রাম্পের সামনে কোনো সহজ পথ নেই।

ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না।

ইরান হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দিয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে বিজয় বললেও ইরান ‘মহান বিজয়’ দাবি করছে। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ফারাক থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।