
যুদ্ধে জীবন দিতে চাওয়া ইরানিদের গণবিয়ে, মেশিনগান নিয়ে হাজির বর–কনে
ইরানে আয়োজন করা হয়েছে গণবিয়ের। জমজমাট আয়োজন।

ইরানে আয়োজন করা হয়েছে গণবিয়ের। জমজমাট আয়োজন।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ‘প্রতিরোধ সমীকরণ’ তৈরি করতে চাইছে। সেই অনুযায়ী, লেবাননের যেকোনো জায়গায় ইসরায়েল হামলা চালালে ইরান সরাসরি তার ওপর পাল্টা আঘাত হানবে।

শুক্রবার একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এফ-১৫ই এবং এ-১০ মডেলের বিমান দুটি পৃথক ঘটনায় ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে ইরান দাবি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ ঘটনা আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না।

বিশ্ব গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশ তীব্র তেলসংকট পড়বে। এমনকি তেলশূন্যও হয়ে পড়তে পারে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলমান বৈরিতা, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি ও সংঘাতের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ঘোষণার ঘটনা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারকে সই করে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার বিবৃতি জারি করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। ওয়াশিংটনের প্রতি চরম অবিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসছে তেহরান। ‘হাতের আঙুল এখনো ট্রিগারে’—শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিষদ।

ভারতের রেস্তোরাঁ ও স্ট্রিট ফুডপ্রেমীদের মনেও একধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় তেহরানের সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে। চশমার দোকান থেকে পারলার, স্টুডিও-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত সব লণ্ডভণ্ড। তারা শুধু চান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক।

ইসরায়েলি অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলে সামরিক উন্মাদনার জোয়ার বয়ে গেছে।

ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ কি ইরানে ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটাতে পারবে? ইতিহাস দেখায়, বোমা ফেলে জনগণ শাসকের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। তেহরানের মানুষও একই স্থৈর্য দেখাচ্ছে।

ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা মার্কিন জোটের মিত্রদের শর্তসাপেক্ষ অবস্থানকে প্রকাশ করছে। তেল সরবরাহের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক প্রভাব জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের সামনে এই চ্যালেঞ্জ গুরুতর।