
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ
সরকারের এই সিদ্ধান্তের একটি মানবিক দিকও রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ায় প্রান্তিক পরিবারগুলো এখন বাড়তি অর্থ সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে পারবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের একটি মানবিক দিকও রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ায় প্রান্তিক পরিবারগুলো এখন বাড়তি অর্থ সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে পারবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই অনেকটা বেপরোয়া বিদেশি ঋণে ঝুঁকেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। রাজস্ব–ঘাটতির কারণে বাজেট সহায়তা এবং বড় প্রকল্পে অর্থছাড় বাড়ানোয় বিদেশি ঋণের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।

বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে ব্যাংকঋণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে সরকারের উচ্চ ঋণ এ ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।

আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিআই কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী নেতারা এই শঙ্কার কথা বলেন।

কুষ্টিয়া চিনিকলকে বেজার কাছে হস্তান্তর করে শিল্পপার্ক গড়ার পরিকল্পনা আটকে আছে বিপুল ঋণ, জমির মূল্য নির্ধারণ ও শ্রমিকদের ভবিষ্যত নিয়ে জটিলতায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নীতিগত অনুমোদন পেলেও প্রক্রিয়ায় কোনো গতি নেই। বিএসএফআইসির অধীনে লোকসানী চিনিকলের এই অবস্থা অর্থনৈতিক সুযোগের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের প্রশংসা করা নয়, বরং গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে আরও কার্যকর বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।

জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম বাজেটকে গরিব মারার বাজেট আখ্যা দিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

অনেক গ্রামীণ নারী, যাঁরা একসময় ক্ষুদ্রঋণ গ্রুপের সদস্য ছিলেন, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের সদস্য বা চেয়ারম্যান হয়ে সামাজিক নেতৃত্বেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি আওয়ামী লীগের সময়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেক শর্ত আছে, এর কিছু শর্ত বিএনপি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না–ও হতে পারে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্ষুন্ন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরেছে এর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়। বিগত সরকারের আমলে লুটপাট এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

আজ সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা হয়। সরকারের ব্যয় প্রস্তাবের দাবির ওপর ভোট গ্রহণের সময় অর্থ বিভাগের দাবি নিয়ে আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অর্থনীতির দুর্বলতা তুলে ধরে বিরোধী দল।

নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়ালেও রাজস্ব আয়ের অনিশ্চয়তায় ঘাটতি মেটাতে বাড়তি ঋণের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে। আগামী বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে এসব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে।