
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দল ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিচ্ছে
আপনি অন্তর্বর্তী সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, এখন বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী।

আপনি অন্তর্বর্তী সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, এখন বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী।

২০১১ সালের ৩০ জুন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আওয়ামী লীগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল। তা বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশে নির্বাচনের গতিপথ, রাজনীতিতে রাখে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবেতে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে করা পৃথক আপিল আংশিক শ্রুত (আংশিক শুনানি হয়েছে) হিসেবে বলে গণ্য হবে না।

বিরোধী দল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ বাজেটকে অপরিকল্পিত ও অবাস্তবায়নযোগ্য আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছে।

বিজেপি সরকার ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে এবং লোকসভা-বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়াতে চায়। জনগণনার অপেক্ষা না করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। এতে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আসন কম বাড়ায় বিরোধীরা উদ্বিগ্ন।

হঠাৎই কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে ২০২৯ সালের নির্বাচনেই সেই সংরক্ষণ চালু করতে উদ্যোগী হয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, জুলাই সনদ সংসদই বাস্তবায়ন করবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। গণভোটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ খাল-নদী খননের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংশোধনের বিরোধিতা করে বলেছেন, ছেঁড়া জামা জোড়া লাগিয়ে জাতির গায়ে পরাতে চান না। তিনি ফ্যাসিবাদের সূচনা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গণভোটে সমর্থন পাওয়া মানেই প্রতিটি প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে, এমন নয়। বিশেষ করে যখন প্রস্তাবগুলো বহুবিধ এবং জটিল। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

২০২৬ সালে এসেও রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনীর জন্য জুলাই সনদ প্রশ্নে গণভোট আহ্বান করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত এবং পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যই এই গণভোটের ভিত্তি।