
মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে আইনে রূপান্তরের আহ্বান
বর্তমান কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বর্তমান কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকার আমলে করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের পর বিএনপি সরকার এখন যে আইন করতে যাচ্ছে, তাতে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া আশঙ্কা দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বাংলাদেশে ১৩তম সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) অধ্যাদেশ।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করায় ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করা হয়েছে। সরকারকে নির্বাচনী অঙ্গীকার মেনে চলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, সেই যুক্তিতে তাঁরাই একসময় গুমের শিকার হয়েছেন।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে গুম করে হত্যার পর অনেক ব্যক্তির লাশ ফেলা হয়েছে বরিশালের বলেশ্বর নদে ও বরগুনার পাথরঘাটায়।

গত ৭ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামে বম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের বিনা বিচারে কারাগারে অন্তরিন থাকার ৭০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজ বেশ হতবিহ্বল অবস্থায় পড়েছে এই মুহূর্তে। রাজনৈতিক সংস্কারের অনেক দিনের প্রচেষ্টাগুলো আচমকা আটকে গেল সংসদে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে।

প্রায় দেড় বছর ধরে অচল থাকার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই।

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না।