
নেত্রকোনার হাওরে বোরো ধানে কৃষকের স্বস্তি, আছে শঙ্কাও
নেত্রকোনার হাওরে বোরো ধানে কৃষকের স্বস্তি। তবে জ্বালানি তেলের সংকট, শ্রমিকের অভাব ও অকাল বন্যার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষক। কম দামে বিক্রির চাপও রয়েছে।

নেত্রকোনার হাওরে বোরো ধানে কৃষকের স্বস্তি। তবে জ্বালানি তেলের সংকট, শ্রমিকের অভাব ও অকাল বন্যার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষক। কম দামে বিক্রির চাপও রয়েছে।

সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরে অকালবন্যায় বোরো ধানের বিশাল ফসলহানি। প্রতি বছরের পুনরাবৃত্তি বিপর্যয়ে টেকসই সমাধানের দাবি জোরালো। কৃষকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, স্বতন্ত্র কৃষিনীতি ও পানি ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব。

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে অনেক হাওরে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এ কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটায় সমস্যা হচ্ছে। এদিকে সেখানে শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটায় শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় জেলার সব বালুমহাল আরও পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় তলিয়েছে বোরো ধান। নৌকা আর কোমরসমান পানিতে নেমে অন্তত পরিবারের খাবার জোগাড়ে শেষ চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।

নেত্রকোনার হাওরসহ নিম্নাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে কিছু কিছু এলাকায় আগাম কাটা শুরু হলেও গত রোববার পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি ধান, আর ধানের মধ্যে বোরো মৌসুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় এবারের অতিবৃষ্টিতে হাজার হাজার কৃষকের বোরো ধান হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে, যা কোরবানির ঈদ উদ্যাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো দেশের চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুম। এ মৌসুমের শুরুতে সাধারণত চালের দাম কমে। এবারও কমছিল। তবে কমার ধারা স্থায়ী হয়নি। দাম আবার বেড়ে যাচ্ছে।

নেত্রকোনার হাওরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। শ্রমিকসংকট ও অনিশ্চয়তায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে অতিবৃষ্টির জলাবদ্ধতায় পাকা না হয়েই বোরো ধান তলিয়ে গেছে। হাজারো কৃষক ফসল হারিয়ে অসহায়, অনেকে বাঁধ কেটে ও পাম্প বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। ক্ষতির পরিমাণ জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর ছাড়িয়েছে বলে দাবি।

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপারে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত বোরো ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় চলছে।