
ইতিহাসের মহান বিপ্লবী, না বিতর্কিত মতাদর্শী
বিশ শতকের ইতিহাসে খুব কম মানুষই আর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারার মতো এতটা ভক্তি জাগাতে এবং একই সঙ্গে এতটা বিতর্ক উসকে দিতে পেরেছেন।

বিশ শতকের ইতিহাসে খুব কম মানুষই আর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারার মতো এতটা ভক্তি জাগাতে এবং একই সঙ্গে এতটা বিতর্ক উসকে দিতে পেরেছেন।

উকিল মুন্সীর লেখা ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ‘অপরাধী হইলেও আমি তর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘এসো হে কাঙালের বন্ধু’, ‘ভিখারি দুয়ারে’, ‘কুলমান যৌবন দিলাম বিসর্জন’-এর মতো বিখ্যাত গানগুলো শুধু ভাটি বাংলার সম্পদই নয়, এগুলো এখন সমগ্র বাংলার বিরহভাবের সম্পদ। উকিল মুন্সী ইমামতির পাশাপাশি গান করতেন, কখনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে, কখনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়া, তিনি মাঝেমধ্যে পালাগানের আসরেও যোগ দিতেন।

বাংলায় মাদ্রাসা কেবল ধর্মশিক্ষার ইতিহাস নয়; এটি একসময়ের জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশেরও ইতিহাস। মধ্যযুগের বাংলায় মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পের যে ধারা, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন থেকে কামরুল হাসান পর্যন্ত, সেটা মূলত ‘মানুষীয়’ ধারা। দুর্ভিক্ষের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের মানুষ, মাটির মানুষ। এই ধারায় ছবি একটা সাক্ষ্য দেয়; ঘটনার, সময়ের, যন্ত্রণার। কিবরিয়া এই ধারার বাইরে। তবে বিপরীতে নন, অন্য কোথাও। তিনি সাক্ষ্য দেন না, তিনি একটা অবস্থা তৈরি করেন। পার্থক্যটা সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যেন চিরযৌবনের প্রতীক। ব্যক্তিজীবন, কবিতা, সমাজ ও রাষ্ট্র—প্রতিটি ক্ষেত্রে বশ্যতার নিয়ম ও আধিপত্যবাদী দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর বিদ্রোহ। বিট–প্রজন্মের নেতা ও ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধী এই কবি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে। লিখেছিলেন তাঁর অমর কবিতা ‘যশোর রোডে সেপ্টেম্বর’। ৩ জুন এই কবির জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হলো।

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু নাম সময়কে অতিক্রম করে কেবল লেখকের পরিচয় নয়, বরং একধরনের নান্দনিক ও মানবিক প্রতীকে পরিণত হয়। ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (৫ জুন ১৮৯৮—১৮ আগস্ট ১৯৩৬) তেমনই এক নাম—যিনি কবিতা, নাটক ও প্রতীকের ভাষায় জীবন, মৃত্যু ও স্বাধীনতার গভীরতম সংকটকে রূপ দিয়েছেন। ৫ জুন তাঁর জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁকে কেবল স্মরণ করা নয়; বরং আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যের এক ট্র্যাজিক কিন্তু উজ্জ্বল অধ্যায়কে নতুন করে পাঠ করা।

ইংরেজ আমলে রংপুর অঞ্চলে বেশ কিছু জমিদার ও রাজপরিবার এসে আবাস গড়ে তুলেছিল এবং নিজেদের রাজত্ব ও জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রাজবংশ হলো তাজহাট রাজবংশ, ডিমলা রাজবংশ এবং কাকিনা রাজবংশ। অন্যদিকে জমিদার বংশগুলোর মধ্যে ভিতরবন্ধ জমিদার বংশ ও কুণ্ডি জমিদার বংশ বিশেষভাবে পরিচিত। এ ছাড়া ইটাকুমারী জমিদার, মন্থনা জমিদার, তুষভান্ডার জমিদার এবং মহিপুর জমিদারদের নামও উল্লেখযোগ্য।

অতএব বিশ্বসাহিত্যের ভবিষ্যৎ কোনো একক পথে এগোবে না। এটি হবে বহু ভাষার, বহু অভিজ্ঞতার ও বহু কণ্ঠের বিস্তৃত পরিসর। কিন্তু সবকিছুর কেন্দ্রে থাকবে মানুষের প্রশ্ন—আমি কে, অন্য মানুষকে কীভাবে বুঝব, সময়ের সঙ্গে কীভাবে বাঁচব, ভয় আর আশা কীভাবে একসঙ্গে ধারণ করব। সাহিত্য এই প্রশ্নগুলোর সরল উত্তর দেয় না। তবে সে প্রশ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। আর প্রশ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্য করে তোলে।

সিদ্ধার্থ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট, কাহিনি, চরিত্র ও সাধনা ভারতীয় কিংবা বৌদ্ধধর্মের আদর্শভিত্তিক হলেও হেরমান হেসে জীবনকে অনুসন্ধান করেছেন ইউরোপীয় চিন্তাচেতনার আলোকে। তাই তিনি খোলনলচে পাল্টে দিয়েছেন অনেক কিছুর। যেমন গৌতম বুদ্ধের অপর নাম সিদ্ধার্থ হলেও উপন্যাসে দুজনে ভিন্ন ও বিপরীত মতাদর্শের মানুষ।

কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি সাংস্কৃতিক চেতনায় এমন এক নাম, যা একই সঙ্গে আবেগ, ইতিহাস, বিদ্রোহ এবং জনমানসের গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। দুই বাংলাতেই তাঁর নাম উচ্চারিত হয় প্রবল ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসে।

