
আটলান্টিকের বাতাসে ভাসে হারিরার সুবাস
রমজানে পাড়ায় পাড়ায় গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পথচারী ও অভাবী মানুষের জন্য সাজিয়ে রাখা হয় ইফতারের বাক্স। একে বলা হয় ‘তাকাসুল’।

রমজানে পাড়ায় পাড়ায় গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পথচারী ও অভাবী মানুষের জন্য সাজিয়ে রাখা হয় ইফতারের বাক্স। একে বলা হয় ‘তাকাসুল’।

লন্ডনের আরেকটি জনপ্রিয় ইফতার আয়োজন হলো ‘ইফতার স্ট্রিট’। লন্ডনের ফিনসবারি পার্ক মসজিদের সামনের রাস্তাটি ইফতারের সময় এক বিশাল দস্তরখানে পরিণত হয়।

ধনী-গরিব নির্বিশেষে আশি হাজার মানুষ যখন ববফরাসের পড়ন্ত বিকেলের সূর্য আর সমুদ্রের মৃদু বাতাসের মাঝে ইফতার করেন, তখন তা এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় রমজান রাতে এক বিচিত্র খেলা জমে ওঠে, যার নাম ‘আন্ডা যুদ্ধ’। সাহ্রি পর্যন্ত মানুষকে জাগিয়ে রাখতে এই শতাব্দী প্রাচীন খেলার আয়োজন করা হয়।

ফিলিস্তিনের ইফতার টেবিলের মধ্যমণি হলো ‘মাকলুবা’। মাংস, ভাত আর ভাজা সবজি দিয়ে রান্না করা খাবারটি পরিবেশনের সময় পাত্রটি উল্টে দেওয়া হয়। ‘মাকলুবা’ মানে উল্টানো।

এ–বছর কম্বোডিয়া সরকার ‘কম্বোডিয়া রমজান বাজার'-কে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরেছে। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো এখানেও এখন বিশাল ইফতার বাজার বসে।

যেখানে বছরের বেশিরভাগ সময় সূর্য লুকোচুরি খেলে এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে, সেখানে রমজান পালন করা যেন এক রোমাঞ্চকর আধ্যাত্মিক যুদ্ধ।

সৌদি আরবে ইফতার শুরু হয় সাদামাটাভাবে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘ফকুক আল-রিক’ বা রোজা ভাঙার মুহূর্ত। এক গ্লাস পানি, মদিনার আজওয়া খেজুর আর এক কাপ ‘গাহওয়া’।

ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলের প্রাচীন রীতি—লবণ দিয়ে ইফতার করা। তারা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ উপবাসের পর লবণ মুখে দিয়ে রোজা ভাঙা শরীরের জন্য উপকারী।

ইফতারে তারা পরিবারের সদস্য সংখ্যার চেয়ে অন্তত একটি প্লেট বেশি সাজিয়ে রাখে, যদি ইফতারের মুহূর্তে কোনো মুসাফির বা মেহমান দরজায় কড়া নাড়েন!

১৭৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের তিনটি প্রাচীন মাটির ফলক স্ক্রিপ্টকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম রান্নার বই। সেই প্রাচীন ‘খুবজ আল-আরুক’ আজও ইরাকি ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এ–বছর রমজানে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইম স্কয়ার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে। হাজারো মুসলিম ডিজিটাল বিলবোর্ডের আলোর নিচে দাঁড়িয়ে জামাতে তারাবি পড়েছেন।