
‘দস্যুরা নিচতলায় থাকা কর্মীদের জিম্মির পর মাস্টার ব্রিজে ঢোকার চেষ্টা করে’
সুন্দরবনের ভেতরে দস্যুদের হামলার শিকার হওয়ার পরও ভারতের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করেছে কার্গো জাহাজ এমভি আব্দুল হাকিম-১।

সুন্দরবনের ভেতরে দস্যুদের হামলার শিকার হওয়ার পরও ভারতের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করেছে কার্গো জাহাজ এমভি আব্দুল হাকিম-১।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া শিকার শেষে ফেরার পথে ছয় জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। অপহৃত ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা।

আজ বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের ‘বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ সাত সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুরা আট বনজীবীকে অপহরণ করে ২০-৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। গতকাল চুনকুড়ি নদী এলাকায় ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো অভিযোগ না এলে তদন্ত করা কঠিন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে-মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করে দস্যুরা তাদের ছাড় দিয়েছে। তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নিখোঁজ রয়েছেন।

সুন্দরবনের সিঙারটেকে বনদস্যুদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় বনরক্ষীরা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে চার জেলকে উদ্ধার করেছে। দস্যুরা পালিয়ে যায়, ট্রলার ও অস্ত্র জব্দ হয়। কোনো হতাহত হয়নি।

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহকারী ১৩ মৌয়ালকে বনদস্যুরা নির্যাতন করে মুক্তিপণ নিয়েছে। দস্যুমুক্ত ঘোষিত এলাকায় আবার অপরাধী চক্রের উত্থান উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিত অভিযান ও তদন্তের মাধ্যমে জেলে-মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাঘ, জলদস্যু ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই এখন বনসংলগ্ন এলাকায় মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরা বনজীবী ঈমান আলী এখন বনদস্যুদের ভয়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন সেই বনে যেতে পারছেন না।

কক্সবাজারের জেলেরা ধার শোধের আশায় মাছ বিক্রির পর্ণায়ণ ছিলেন, কিন্তু খারাপ ফলন ও ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সংকটে পড়েছেন। জ্বালানি সংকট, মাছের আকাল, জলদস্যু ও দুর্যোগে কাতর তারা। ফিশিং বোট মালিক সমিতি চার সংকটের কথা তুলে ধরেছেন।

সুন্দরবনের বনজীবী আতিয়ার গাজী (৬২) মঙ্গলবার বনদস্যুদের গুলিতে আহত হন কাঁকড়া শিকারের সময়। বাঘের আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরলেও এখন বনদস্যুরা তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়। চাঁদা না দেওয়ায় বনজীবীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।

পয়লা এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিলেও বনদস্যুরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌয়ালরা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়ে বনে প্রবেশ করতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্ছিদ্র টহল চালাতে হবে।