
সরবরাহ বাড়ায় পাম্পে চাপ নেই
মূলত সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের ভিড় কমেছে।

মূলত সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের ভিড় কমেছে।

ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পরও মানুষের তেল পাওয়ার ভোগান্তি দূর হয়নি।

পিপিআরসি চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকার উত্তরাধিকারের সংকট, জ্বালানি অস্থিরতা এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি আওয়ামী লীগের সময়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেক শর্ত আছে, এর কিছু শর্ত বিএনপি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না–ও হতে পারে।

ব্যবসায়ী ও জ্বালানি খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর মার্চে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়লেও এপ্রিল-মে সরবরাহ বেড়েছে। বিপিসি জানায়, দেশে বড় সংকট নেই, আরও ১০টি জাহাজ আসছে। মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য সংস্কার দরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাত ২টায় শত শত মানুষ নির্ঘুম অপেক্ষায়। মহাখালী থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি গড়ে ওঠে। তেলের অভাবে সৃষ্ট এই অবস্থা অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি।

ইরান হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজকে। এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা চার লাখ টনের মুখে নতুন উৎস থেকে বাড়তি আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, কোনো সংকট হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্কে খুলনা ও সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে ভিড় করছেন চালকেরা। কোথাও ‘তেল নেই’, কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।

ইরানের তেলকে কেন্দ্র করে গল্পের শেষ নেই। তেল শুধু জ্বালানি নয়; বরং তা কোম্পানি, রাষ্ট্র, সাম্রাজ্য, যুদ্ধ, কূটনীতি, মুনাফা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষমতারও গল্প।

সকাল ১০টায় রাজধানীর আসাদগেট গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দুটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলো থেকে চালকদের বলা হচ্ছিল, ‘তেল নেই।’