
‘কোনো দিন ভাগে পড়ে নাই, আইজকা পাইয়া গেছি’
ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি।

ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় টিসিবির ৩৭১ জন কার্ডধারী বরাদ্দ থাকা চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন; এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

অন্তঃসত্ত্বা সুমি আক্তার সাড়ে তিন ঘণ্টা ছোটাছুটি করে টিসিবির ট্রাক সেল থেকে সস্তায় চিনি, ডাল ও তেল কিনলেন। লম্বা সারি, দেরি ও মারামারির মধ্যেও চলছে ঈদুল আজহার জন্য ৪৫টি ট্রাকে সাশ্রয়ী পণ্য বিক্রি। একজন এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল ৪৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে টিসিবির ট্রাকের লাইনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাতি সাইফুলকে শিকলে বেঁধে দাঁড়িয়েছিলেন সালেহা বেগম। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেলসহ পণ্য কিনতে পারেন নিরুপায় নানি। নিম্ন আয়ের পরিবারের এই দুঃস্থিতির ছবি তুলে ধরেছেন প্রতিবেদক।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাল থেকে টিসিবির ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকা দরে বিক্রি। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি ডাল কিনতে পারবেন। এতে প্রায় ২৯ লাখ মানুষ সাশ্রয় পাবেন।

নাটোরে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। বিক্রির স্থান ও সময় আগে থেকে না জানানোয় ভোগান্তিতে পড়েছেন সুবিধাভোগীরা।

তেলের বোতলগুলোর গায়ের মোড়ক তুলে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এগুলো টিসিবির পণ্য। ওই পণ্যগুলো বিতরণ না করে সেখানে জমিয়ে রাখা হচ্ছিল।

টিসিবির ১২ বস্তা পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ বাজারে ভ্যানসহ দুজনকে আটক করেন স্থানীয় জনতা।

নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছায় পাগলাবাজারে। আগাম প্রচার না থাকায় অনেকেই জানতে পারেননি বিক্রির খবর।

টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপনে যে কত বড় সংকট তৈরি করেছে, তা টিসিবির ট্রাকের পেছনে ছুটতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়া নারীর ছবিই বড় উদাহরণ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি কলেজে মালির চাকরি করেন মনসুর আলী। মাসে বেতন পান সাকল্যে ২২ হাজার টাকা। চারজনের সংসার তাঁর একার আয়ে চলে।

ফটোসাংবাদিক দীপু মালাকার বলছিলেন, ঘটনার পর ট্রাকটি সেখান থেকে চলে যায়। অন্য কোথাও পণ্য বিক্রি করে। যাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, তাঁরা পণ্য পাননি।