
দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত কত
দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত কত

দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত কত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিক বাড়লেও এখনই নিজেদের সংরক্ষিত জরুরি মজুত বাজারে না ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আতঙ্কে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, ফিলিং স্টেশনে লাইন লম্বা। সরকার ফুয়েল কার্ড ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করছে, তবে মজুত রোধে আরও পদক্ষেপ দরকার। বিপিসি জানায়, মজুত যথেষ্ট আছে।

কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ক্ষমতা নির্ধারিত হতো তেলের মজুত, উৎপাদনক্ষমতা, পাইপলাইন, জাহাজ চলাচলের রুট এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে।

অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে জ্বালানি তেলের মজুত ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত আমদানি করতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসছে দেশে। চলতি এপ্রিল মাসের ২০ দিনে এখন পর্যন্ত ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১২টি জাহাজ এসেছে। এতে মজুত কিছুটা বেড়েছে।

র্যাবের অভিযানে চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও ফরিদপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত শনাক্ত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ লাখ ৬১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে এবং দুজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে র্যাব জানিয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস–মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর মার্চে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়লেও এপ্রিল-মে সরবরাহ বেড়েছে। বিপিসি জানায়, দেশে বড় সংকট নেই, আরও ১০টি জাহাজ আসছে। মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য সংস্কার দরকার।

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। দৈনিক শোধনসক্ষমতা অনুযায়ী এই মজুত দিয়ে আরও ২০ থেকে ২২ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নির্ধারিত সময়ে নতুন চালান না এলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটির উৎপাদনব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে কৃষকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনাও আমাদের দেখতে হয়েছে।

নেত্রকোনায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। ফলে অধিক মুনাফার আশায় দুই ব্যবসায়ী তাঁদের গুদামে ৩ হাজার ১০০ লিটার ডিজেল মজুত করেছিলেন।