
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৭ শতাংশে
এরই মধ্যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত।

এরই মধ্যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত।

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ব্যাংকগুলোর ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের।

অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার কোটির বেশি। শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকায় এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় আজ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বার্তা দেন।

১০ কোটি টাকার কম ঋণে গড় খেলাপির হার সাড়ে ২১ শতাংশ। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ বড় ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি।

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জানিয়েছেন। এমপি-দের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন।

ভয়ংকর উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, বারবার ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির সব ঘটনা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্ষুন্ন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরেছে এর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়। বিগত সরকারের আমলে লুটপাট এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

অস্বাভাবিক মাত্রায় ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া, সম্পদের প্রকৃত মান নিয়ে প্রশ্ন, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ এবং বিপুল প্রভিশন ঘাটতি; সেগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা ছিল না। এগুলো ইঙ্গিত করছিল যে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যিনি তাৎক্ষণিক বা জরুরি ঋণে জর্জরিত এবং পাওনাদার টাকা চাচ্ছে, তার জন্য কোরবানির টাকা জমিয়ে না রেখে আগে ঋণ শোধ করা ফরজ। ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করাকে জুলুম।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের শীর্ষ ১২০ খেলাপির কাছে ৯২ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা পাওনা, ২০২৫ সালে আদায় মাত্র ৪৬৯ কোটি। বিপুল খেলাপি ও মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থা চিন্তাজনক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খেলাপি আদায়ের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।