
ভারতে ওয়েবসাইট ‘ব্লকড’; নতুন ঠিকানা নিচ্ছে ‘তেলাপোকা’
ভারত থেকে এখন আর ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। অভিজিৎ দিপকে বলেন, তাঁরা নতুন ঠিকানা তৈরির কাজ করছেন।

ভারত থেকে এখন আর ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। অভিজিৎ দিপকে বলেন, তাঁরা নতুন ঠিকানা তৈরির কাজ করছেন।

ভারতে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ এক অদ্ভুত চিত্র সামনে এনেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের গভীর অনিরাপত্তা যেন প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। কয়েকজন কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণী মিলে তৈরি করেছিলেন একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন অ্যাকাউন্ট—‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

যে শব্দ একসময় অবমাননা বা ছোট করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, তা-ই এখন অনলাইন দুনিয়ায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

অভিজিৎ দিপকেকে চড়থাপ্পড় মারা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২০২১ সালে মন্ত্রিসভার রদবদলে এক ধাক্কায় বাদ দিয়েছিলেন ১২ জনকে। কোভিড তখন চরমে, অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনকে ছেঁটে ফেললেন! টুইটারের বিরুদ্ধে জিহাদে নেমেছিলেন আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তাঁকে ছাঁটাই করলেন। সরালেন শিক্ষানীতির রূপকার শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল, পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর, সারমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়, শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারকে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি গত ৬ জুন প্রথম যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ করে

ভারতের তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ অপ্রত্যাশিতভাবে রূপ নিয়েছে একটি অপ্রথাগত রাজনৈতিক দলে। সেটি হলো—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। দিল্লিতে সমাবেশ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছে তারা।

দিল্লির সংসদ ভবনের অদূরে যন্তর মন্তরে তেলাপোকারা শান্তিপূর্ণ ধরনায় বসার অনুমতি পাবেন কি না, তা এখনো অজানা। অনিশ্চিত এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক-ডিজিটাল পরিসরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ একটি অদ্ভুত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি ভারতীয় জেন-জি প্রজন্মের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।