
ইরান নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্যকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া
ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মঙ্গলবার নারী ফুটবল দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মঙ্গলবার নারী ফুটবল দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে পারবে কি না, এ মুহূর্তে তা তিনি জানেন না।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই হবে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ। ইরানের প্রস্তুতিতে ফিফার সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইরানকে দেশে ভিড়তে দিতে চাইছিল না যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচই ইরান খেলছে যুক্তরাষ্ট্রে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় নড়ে উঠেছে ফুটবল বিশ্বও। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা নিয়েও।

ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জহরা কানবারির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়ার ঘটনায় তাঁর ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে বিচার বিভাগ। এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে নিশ্চিত করেছে ফুটবল ফেডারেশন। আয়োজক তিন দেশকে ১০টি শর্ত দিয়েছে বিশ্বাস-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য। বিশ্বকাপ না গেলে ‘বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার’ হারানোর কথা বলেছেন সভাপতি মেহেদি তাজ।

বিশ্বকাপে ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ফিফাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত। তবে এমন প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছে ইতালি।

সূচি অনুযায়ী, ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের। ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ মিসরের বিপক্ষে।

নিরাপত্তাঝুঁকি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না ইরান। বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে স্থানীয় বাসিন্দারা টিকিট কিনেছেন মাত্র সাড়ে ৮ হাজার; অথচ ইরানের ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষ টিকিট কিনেছেন ১৭ হাজারের বেশি!

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।