
পারস্য সম্রাট থেকে জাকার্তা—বিজয় ও পরিবর্তনের এক দিন
এই দিনে একদিকে যেমন আরবের বুক থেকে প্রাচীন মূর্তিপূজার প্রাতিষ্ঠানিক অবসান ঘটেছিল, তেমনি পতন ঘটেছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী পারস্য সাম্রাজ্যের।

এই দিনে একদিকে যেমন আরবের বুক থেকে প্রাচীন মূর্তিপূজার প্রাতিষ্ঠানিক অবসান ঘটেছিল, তেমনি পতন ঘটেছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী পারস্য সাম্রাজ্যের।

এই দিনে আরবের বুক থেকে মূর্তিপূজার চূড়ান্ত বিনাশ ঘটে। মঙ্গোল বাহিনীও পরাজিত হয় এই দিন, ফলে মানবসভ্যতা নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

৩ রমজান দিনটি বেশ বৈচিত্র্যময়। একদিকে এই দিনে ইসলামের প্রথম সশস্ত্র সংগ্রামের যাত্রা শুরু হয়, অন্যদিকে এই দিনেই পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছিলেন মহানবীর কন্যা ফাতিমা (রা.)।

৪ রমজান এক কৌশলগত মোড় পরিবর্তনের দিন। এই দিনে একদিকে মদিনার ইসলামের প্রথম সামরিক পতাকা উড্ডীন হয়, অন্যদিকে ১৭০ বছরের ক্রুসেড দখলদারির অবসান ঘটে।

১৫ রমজান দিনটি ঘটনাবহুল। একদিকে যেমন এই দিনে মহানবী (সা.)–এর দৌহিত্রের আগমনে ঘটে, তেমনি এটি বিশ্বকে মঙ্গোলদের হাত থেকে রক্ষার ঐতিহাসিক সাক্ষী।

আবু তালিবের মৃত্যুর কিছুকাল পরে এই দিনে খাদিজা (রা.)-এর বিদায় নবীজির জীবনে বিশাল শূন্যতা তৈরি করে, যা ইতিহাসে শোকের বছর হিসেবে পরিচিত।

১৭ রমজানকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন। এই দিনে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইসলামের প্রথম কৌশলগত বিজয় অর্জন হয়।

২০ রমজান আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। একই দিনে ব্যাবিলন দুর্গ জয় হয়, সাইপ্রাস জয় হয়।

একটি যুদ্ধের মাধ্যমেই স্পেনে আটশ বছরের মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা ইউরোপকে অন্ধকার যুগ থেকে বের করে আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের আলো দেখায়।

২৪ হিজরিতে খলিফা ওসমান (রা.)-এর আমলে বছরে দুবার কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের রীতি শুরু হয়, যার একটি ছিল রমজানের ২৭ তারিখে।

তাঁর ৫০ বছরের শাসনামলে কর্ডোভা হয়ে ওঠে বিশ্বের জ্ঞান ও কূটনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাঁর নির্মিত ‘মদিনাতুজ জাহরা’ প্রাসাদটি তৎকালীন বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত ছিল।

শেখ ইজ্জুদ্দিন আল–কাসসামের সহযোদ্ধা রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেন। তাঁর শাহাদত ফিলিস্তিনের মহান বিপ্লবের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল।