
বিশ্ব বাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম, ইরানের জাহাজ আটকের জের
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘লেনদেনা’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঠুনকো যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে।

ইরানি বন্দরগুলোয় সব ধরনের সামুদ্রিক যাতায়াতের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল বসানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। তবে তাতে আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের।

গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাটকীয় হুমকির পর ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহ সময় নেয়। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো ব্যর্থতার ছায়ায় হরমুজ প্রণালির কৌশল ইরানকে শক্তিশালী করেছে। ট্রাম্পের সামনে কোনো সহজ পথ নেই।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতের বৈঠকে ইরান যুদ্ধে মিত্রদের অসহযোগিতায় প্রেসিডেন্ট ‘চরম হতাশ’। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে সাড়া না পেয়ে ন্যাটোকে ‘কাগুজের বাঘ’ বলে সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির পরও জোট ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ভেঙেছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশের দেশগুলো এখন ‘কংগ্রেস ফর হরমুজ’ উদ্যোগ নিয়ে সবার মুখ রক্ষা করতে পারে। এতে যুদ্ধ থেকে বের হওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হলে ইরানকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনার জন্য ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা বাতিলসহ কঠোর শর্ত রয়েছে। তেহরান এছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ ফেরতেরও দাবি জানিয়েছে।

ট্রাম্পের কঠোর হুমকি সত্ত্বেও ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার দেশগুলো ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল এ দেশগুলো কূটনীতির মাধ্যমে পথ খুঁজে নিচ্ছে। তবে চুক্তিগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে ভারতের মোট তেল আমদানি ১৫% কমেছে, এলপিজি ৪০% নেমেছে। তবে রাশিয়া থেকে আমদানি ৯০% বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় পেয়ে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে।