
জেট ফুয়েলের দাম কমলো, লিটারে ২২ টাকা সস্তা
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থামার আভাসে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা। বিইআরসি নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য দাম এখন ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থামার আভাসে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা। বিইআরসি নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য দাম এখন ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুতের কোনো বড় সংকট নেই।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোয় কেবিন ও ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন মালিকেরা।

ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলো হরমজু প্রণালি দিয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে প্রতিদিন বৈশ্বিক সরবরাহ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল কমে যাচ্ছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানির বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তার ধাক্কা বাংলাদেশের ওপরেও এসে পড়েছে।

সকাল গড়িয়েছে। রোদের তেজ বাড়ছে ধীরে ধীরে। সেই রোদেই প্রাণ পাচ্ছে একটি যন্ত্র—চাকা লাগানো, খেতে দাঁড়িয়ে থাকা এক অন্য রকম কাঠামো।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্কে খুলনা ও সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে ভিড় করছেন চালকেরা। কোথাও ‘তেল নেই’, কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, জেনারেটরের জন্য পাম্প থেকে তেল মিলছে না। তেলের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

গাইবান্ধায় জ্বালানিসংকটে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পেট্রল পাচ্ছেন না চালকেরা।

সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে কৃষকরা বিপাকে। বোরো ধান কাটার প্রাক্কালে জ্বালানি সংকট ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন সরবরাহের ঘাটতি ও দামবৃদ্ধির।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আহম্মদপুর এলাকায় কানন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসছে দেশে। চলতি এপ্রিল মাসের ২০ দিনে এখন পর্যন্ত ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১২টি জাহাজ এসেছে। এতে মজুত কিছুটা বেড়েছে।