
ইরান যুদ্ধ: শেষ হচ্ছে মার্কিন আধিপত্য
ইরান যুদ্ধ: শেষ হচ্ছে মার্কিন আধিপত্য

ইরান যুদ্ধ: শেষ হচ্ছে মার্কিন আধিপত্য

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন। বিজয় দিবসে তিনি রাশিয়ার বিজয় ঘোষণা করেন এবং যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করেন। এছাড়া তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধ থেকে সেনা প্রত্যাহারের ডেমোক্র্যাট প্রস্তাব ৪৭-৫০ ভোটে নাকচ হয়েছে।

যদি অস্ত্র পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়ে হয়, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেশটিকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সে কাজ কোনোভাবেই সহজ হওয়ার কথা নয়।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্বমন্দার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজার থমকে গেছে। নিয়োগ কমে গেছে, ছাঁটাইও নেই, ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ কমে গেছে। বাংলাদেশেও এই সংকটের ছায়া পড়ছে।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনরা হতাশ এবং নেতিবাচক। চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি স্থল সেনা পাঠানোর বিরোধী। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণার পর সবাই আশা করেছিল ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ঘোষণা করবেন, কিন্তু বুধবারের সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি পুরোনো কথাই পুনরাবৃত্তি করলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই। আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে সংক্ষিপ্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুব শিগগির’ ইরান যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধের শেষসীমা দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং চলমান হামলার মধ্যে মার্কিন নাগরিকরা দ্রুত যুদ্ধবিরতি চান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা যাবে কোনো চুক্তি ছাড়াই। কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে নতুন হামলা হয়েছে। ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় তেহরানের সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে। চশমার দোকান থেকে পারলার, স্টুডিও-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত সব লণ্ডভণ্ড। তারা শুধু চান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক।

যুদ্ধের এক মাস পরও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগ্রাসনকারীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তানসহ মুসলিম দেশগুলো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে যুদ্ধ বন্ধে।