
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানানো হলেও এটি কিছু কঠিন সত্য সামনে নিয়ে এসেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানানো হলেও এটি কিছু কঠিন সত্য সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জয়পুরে বলেছেন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব।

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই ‘মহান চুক্তি’ পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে। তবে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে চুক্তিটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী ইরানবিরোধীরা একে একটি একপেশে চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সব রাজনৈতিক দলই একে একটি ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে গণ্য করছে।

সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের ‘অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার’ সমাধান করা হয়েছে। তবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি।

ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ইরানিদের কাছে চুক্তি মানেই নতুন আলোচনার শুরু। ট্রাম্পের চরম অবস্থান এবং ইরানের কৌশল টেকসই শান্তি বাধা দিচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির চাপের মধ্যেই ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছেছে। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এটি কার্যকর না থাকলে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও সোভিয়েত নেতা লিওনিদ ব্রেজনেভ এ চুক্তি সই করেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগমনের ৬ দিন পর, ২০ মে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চীনে স্বাগত জানান। চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ২০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে (রণাঙ্গনে) লড়াই বন্ধের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনা চলাকালে ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে।

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ চার শক্তি।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনা সত্ত্বেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছায়নি। ইরান সরকার সমর্থকদের সড়কে অবস্থান করে থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও উদ্যোগী হতে বলেছে। আইনপ্রণেতারা যুদ্ধে ইরানের সুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে খুশি।