
কীভাবে যুদ্ধে মানিয়ে নিতে হয়, দেখিয়ে দিচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরানি সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরানি সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছে।

গত ২৫ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তার মধ্যে ইরান যুদ্ধ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ায় চালানো সামরিক হস্তক্ষেপের মতো ছিল না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শুধু আরেকটি মার্কিন সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা থেকে টিকে যায়নি; যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ কখনোই কেবল একটি সরকারের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই ছিল না।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।

ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ইরানিদের কাছে চুক্তি মানেই নতুন আলোচনার শুরু। ট্রাম্পের চরম অবস্থান এবং ইরানের কৌশল টেকসই শান্তি বাধা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি অগ্রহণযোগ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। ইরান দাবি করেছে ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরের মধ্যে দুই নেতা থেকে এমন বার্তা দেওয়া হলো।

গত বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারের মাঝপথে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ অবিলম্বে দেখতে চাচ্ছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান চুক্তি না মানলে আবার হামলা হবে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন নিহত, ১ হাজার ১১০ জনের বেশি আহত। ইরান শান্তি আলোচনাকে অযৌক্তিক বলেছে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করতে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে ইরান।

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনার খবর ফাঁসকারী সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোপনীয় তথ্য ফাঁসের ফলে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়। ইরানি গণমাধ্যম প্রথম বিমান বিধ্বস্তির খবর প্রচার করেছিল।

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন এফ–১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালায়। এতে নিজেদের দুটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করতে হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে সামরিক ইতিহাসের জটিল অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখলকে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশছোঁয়া।