
ঈদুল ফিতর : কী করব, কী করব না
ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন। মহানবী (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে বিশেষভাবে নিষেধ করেছেন।

ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন। মহানবী (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে বিশেষভাবে নিষেধ করেছেন।

জিলহজ মাস হজের প্রধান মাস, যার ৮ থেকে ১২ তারিখে হজের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এই মাসে রোজা, তাকবির, কোরবানি ও বিভিন্ন ইবাদতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের আলোকে এর আমলগুলো জানুন।

ইসলামে সময়কে ঘড়ির কাঁটায় নয়, আমলের ওজনে মাপা হয়। নিয়তের ইখলাসে প্রতি মুহূর্ত ভারী হয়। নামাজ, রোজা, হজের মাধ্যমে জীবনের ওজন বাড়ানোর পথ দেখানো হয়েছে কুরআন-হাদিসে।

আমরা মনে করি কেবল নামাজ, রোজা, জাকাত বা হজের মাধ্যমেই এই মুক্তি সম্ভব। কিন্তু নবীজির একটি হাদিস আমাদের সামনে ভিন্ন এক দুয়ার খুলে দেয়।

রোজা রাখা অবস্থায় অনেকেরই মেজাজ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বিগড়ে যায়। সামান্য কারণে তর্কে জড়ানো বা যানজটে আটকে থাকলে অসহিষ্ণু হয়ে পড়া এক পরিচিত দৃশ্য।

রোজাদারের মধ্যে সাম্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার অনুভূতি জাগ্রত হওয়ার মধ্যেই রোজা ও রমজানের শিক্ষার পূর্ণতা।

সৌদি আরবে ইফতার শুরু হয় সাদামাটাভাবে, যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘ফকুক আল-রিক’ বা রোজা ভাঙার মুহূর্ত। এক গ্লাস পানি, মদিনার আজওয়া খেজুর আর এক কাপ ‘গাহওয়া’।

চীনে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রদেশভিত্তিক ইফতার আয়োজনে দেখা যায় নানা বৈচিত্র্য। মসজিদে সুবিন্যস্ত টেবিলে রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। মাগরিবের আজানের সময় মোনাজাত করে কেবল খেজুর, চা ও একপ্রকার স্যুপ খেয়ে রোজা ভাঙেন মুসল্লিরা।

ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলের প্রাচীন রীতি—লবণ দিয়ে ইফতার করা। তারা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘ উপবাসের পর লবণ মুখে দিয়ে রোজা ভাঙা শরীরের জন্য উপকারী।

হিজরির দ্বিতীয় বছরে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। সেই বছর ১৭ রমজান বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।

শেখ ইজ্জুদ্দিন আল–কাসসামের সহযোদ্ধা রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেন। তাঁর শাহাদত ফিলিস্তিনের মহান বিপ্লবের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল।

হজরত উম্মে ছালামাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি আমল জীবনে কখনো পরিত্যাগ করেননি—তাহাজ্জুদ নামাজ, প্রতি চান্দ্রমাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ “আইয়ামে বিদ” এর রোজা পালন ও রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ।’