
দেশে সোনার বাজারে অস্থিরতা
এক ভরি সোনার অলংকার বানাতে ১১ শতাংশ ভ্যাট, মজুরিসহ মোট খরচ হবে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এক ভরি সোনার অলংকার বানাতে ১১ শতাংশ ভ্যাট, মজুরিসহ মোট খরচ হবে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি ২,২১৬ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজুস আজ সকাল থেকে নতুন দর কার্যকর করেছে। রুপার দামও বেড়েছে ভরিপ্রতি ৫,৭৭৪ টাকায়।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় ছাঁটাইয়ের ভয় দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার এখন স্থিতিশীল কিন্তু স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও এখন দেশেও চাষাবাদ হচ্ছে স্ট্রবেরির। চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা এটি চাষে ঝুঁকছেন।

মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক ৩.৩% বেড়েছে, যা দুই বছরের সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসোলিনের দাম ২১.২% উঠেছে, যা ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে গাড়ি ও মোটরসাইকেল এলপিজি-সিএনজিতে রূপান্তর বেড়েছে। চাহিদা ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এলপিজির দামবৃদ্ধি নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। বিইআরসি দাম নির্ধারণ করেছে লিটারে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা।

ঢাকার কম্পিউটার বাজারে এ সপ্তাহে বহনযোগ্য হার্ডডিস্কের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাস-মিনিবাসের ভাড়া ব্যাপকভাবে বাড়ানোর চাপ দিচ্ছেন পরিবহনমালিকেরা। শুধু জ্বালানির দাম নয়, পরিবহনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে দাবি করে তা যুক্ত করে নতুন ভাড়ার হার নির্ধারণের দাবি করছেন তাঁরা। তবে পরিবহনমালিকদের দাবি মেনে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন খরচ বাড়ছে, তার ঢেউ লাগছে নিত্যপণ্যের দামে। সামনে আরও দাম বৃদ্ধির শঙ্কা আছে। তাই এখনই খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। দাম বৃদ্ধির কারণে সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

পদ্মা সেতু: চালের দাম বৃদ্ধির কারণ?