
ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে যেসব পদক্ষেপ দরকার
ভয়ংকর উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, বারবার ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির সব ঘটনা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে।

ভয়ংকর উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, বারবার ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির সব ঘটনা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে।

অস্বাভাবিক মাত্রায় ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া, সম্পদের প্রকৃত মান নিয়ে প্রশ্ন, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ এবং বিপুল প্রভিশন ঘাটতি; সেগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা ছিল না। এগুলো ইঙ্গিত করছিল যে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, প্রথমে ৪ শতাংশ সুদে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সুদ ৯-১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসসহ নানা সমস্যা ঋণ পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকেই বিশাল বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেই ঋণের টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে, ঋণখেলাপি হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাংলাদেশের ওপরে এক বিরাট অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এই সংবাদ শঙ্কার।

অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১১টি এস আলম গ্রুপের, সালমান এফ রহমানসহ সাবেক এমপি-উপদেষ্টাদের কোম্পানি রয়েছে। মোট খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের ব্যর্থতা। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে।

সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সমালোচনা করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আলোচনায় একটি মৌলিক প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে—আর কোনো দিন কি খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাবে?

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের প্রশংসা করা নয়, বরং গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে আরও কার্যকর বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।

প্রথম ধাপে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম এবং শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন–সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৫৫০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।