
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির পর কি সব কূলই হারাতে বসেছেন যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর দেশে চাপে নেতানিয়াহু

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর দেশে চাপে নেতানিয়াহু

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রায় শেষ, তবে কয়েক সপ্তাহে আরও কঠোর হামলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু যুদ্ধের পর প্রথম এই ভাষণ। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে, যার পিছনে পাকিস্তানের অবিরাম মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ কীভাবে এই অগ্রগতি এনেছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি পাকিস্তানের বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন হয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেননি এবং যুদ্ধের কারণও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ শতাংশ নাগরিক ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত সরে আসার পক্ষে। ৬০ শতাংশ সামরিক অভিযানের বিরোধী। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান চাপে পড়েছে। ইসরায়েলের বেসামরিক হামলা ও মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে পাকিস্তান শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সংঘাত লোহিত সাগরে ছড়াচ্ছে, পেন্টাগন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৌদি আরব হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করছে। পাকিস্তান কূটনৈতিক বৈঠক ডাকছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে দুই সপ্তাহের বিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে ইরানের জনগণকে অস্ত্রে হাতে তোলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ‘জুজুৎসু’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে অভাবনীয় ছাড় আদায় করেছে। আমেরিকার নিজস্ব কৌশলই এখন তার বিরুদ্ধে ফিরে আসছে। এটি ২০১৫-এর পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।