
মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে ইরানের হামলা।
চলমান এই সংঘাতের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। এসব যুদ্ধবিমানের একেকটির নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ কোটি ডলারের বেশি।

চলমান এই সংঘাতের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। এসব যুদ্ধবিমানের একেকটির নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ কোটি ডলারের বেশি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দেশের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্পের ইসরায়েলপন্থী নীতি নিয়ে মার্কিন জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ বলে তিনি মনে করেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এক মাস ধরে চলছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলাকালেই এই জরিপ চালানো হয়। এই অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার হতাহতের খবর আসার আগেই জরিপের কাজ শেষ হয়।

ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান চাপে পড়েছে। ইসরায়েলের বেসামরিক হামলা ও মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে পাকিস্তান শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়েছে।

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। এই সংকট ব্রিটেনের আর্থিক দুর্বলতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল। মার্কিন চাপের মুখে পাউন্ড স্টার্লিংয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার অবস্থান দ্রুত ক্ষয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী হাত গুটিয়ে আনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম আতঙ্কে আছেন প্রবাসী আহমেদ উল্লা। মঙ্গলবার মুঠোফোনে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম যেদিন কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়, সেদিন থেকেই আমরা চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট নেতারা এই বক্তব্যকে নিন্দনীয় ও ভয়াবহ বলে সমালোচনা করেছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা মার্কিন নাগরিকদের জীবনে প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের যৌক্তিকতার অভাব এবং উভয় মিত্রের লক্ষ্যের বিরোধিতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের নেতানিয়াহু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যুদ্ধকে কাজে লাগাচ্ছেন, কিন্তু এতে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বাড়ছে। মার্কিন সাহায্যের অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খোলা ও যুদ্ধবিরতির জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্ট) সময়সীমা দিয়েছেন, না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু ধ্বংসের হুমকি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের হাইফায় ভবন ধসে ২৪ জন আহত। ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু উদ্ধারের দাবি-পাল্টা অভিযোগ চলছে।

স্টিভ ব্যানন ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু এবং আরব রাজপরিবারের সদস্যদের সম্মুখসারিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি মিয়ামি ও লন্ডন থেকে তাদের তুলে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করার আহ্বান জানান। এতে মার্কিন সেনাদের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ব্যানন।