
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৭%: আইএমএফ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে। জ্বালানিসংকট প্রকট হচ্ছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাগুলো।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে। জ্বালানিসংকট প্রকট হচ্ছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাগুলো।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ন্যাশনাল টিউবস ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা লোকসান করে, যেখানে গত বছর একই সময়ে পৌনে ৩ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছিল। নগদ অর্থের প্রবাহ ও সম্পদমূল্য কমে যায়, ফলে শেয়ারের দামও পড়েছে।

এডিবি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। পরের বছরে এটি ৪.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, কারণ আমদানি বেড়েছে কিন্তু রপ্তানি কমেছে। চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। রেমিট্যান্স ও ট্রেড ক্রেডিট এতে ভূমিকা রেখেছে।

২০২২–২৩ অর্থবছরে আয়কর ছাড় হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১,০৭,১৩২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২.৩৯ শতাংশ। এনবিআর-এর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে করপোরেট ও ব্যক্তিগত আয়করে ছাড়ের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। করছাড় কমানোর সংস্কারপূর্ণ পরামর্শও রয়েছে প্রতিবেদনে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশের জিডিপিতে ১.১% ক্ষতির আশঙ্কা করে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বিশ্বব্যাংকও ৩.৯% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। জ্বালানি সংকট শিল্প, রপ্তানি ও দারিদ্র্য হ্রাসে বাধা সৃষ্টি করছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে পেশ হতে যাচ্ছে। স্পষ্ট দর্শন, জনকল্যাণমুখী নীতি ও সামষ্টিক ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়ে বাজেট গড়ে উঠুক। শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জোরালো।

বিবিএসের তথ্যে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি ১.২৭ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাড়াতে চান, যা মোট বাজেটকে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ১০% ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব করেছেন তিনি, যদিও কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। সামরিক বাহিনীর বেতনবৃদ্ধি এবং গোল্ডেন ডোম প্রকল্পের জন্য বিশাল বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত।

মার্চ মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ১৯.৭৮ শতাংশ কমে ৩৩৯.৬০ কোটি ডলার হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, চীনের প্রতিযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এর জন্য দায়ী। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি ৩.১৫ শতাংশ কমেছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অর্থ মন্ত্রণালয় এই অর্থের উৎস নির্ধারণে ব্যস্ত। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে।