
আনন্দের যাত্রায় হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঈদ যাতায়াত সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সেদিকে সরকারের মনোযোগ না দেখে হতাশও তাঁরা।

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঈদ যাতায়াত সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সেদিকে সরকারের মনোযোগ না দেখে হতাশও তাঁরা।

তিন মাস থেকে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল শনিবার রাতে থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড, তথা হাম ওয়ার্ডে রোগী পাঠানো শুরু হয়েছে।

হাম শুধু শিশুদের নয়, বড়দেরও হয় এবং তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ বছরের বেশি বয়সীদের হাম–পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি। টিকা, পরিচ্ছন্নতা ও সময়মতো চিকিৎসা দিয়ে এটি রোধ করা যায়।

ইউনিসেফ ও মুক্তকণ্ঠ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে টিকাদানের আগাম প্রভাব ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

হামের সংক্রমণ নিয়ে তথ্যের ঘাটতি

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (১১ মে সকাল ৮টা থেকে ১২ মে সকাল ৮টা) হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ১০৫ শিশুতে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে মোট ৭ হাজার ২৪ শিশুতে হাম শনাক্ত হয়েছে।

কাল রবিবার থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান শুরু হচ্ছে। হামের উচ্চ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এসব এলাকায়, যার মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য। সংক্রমণের হার বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুরে সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের 'আট বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি' বক্তব্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি। তথ্য বলছে, নিয়মিত টিকাদান চলছিল, তবে সাম্প্রতিক ঘাটতির কারণে হাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০তম সপ্তাহের (১১–১৭ মে) এবং ২১তম সপ্তাহের (১৮–২৪ মে) রোগতাত্ত্বিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমে আসছে।

বরগুনায় হামের রোগী বেশি। দেশের দক্ষিণের এই জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী ১৮৪ জন, নিশ্চিত ৩৫ জন। বরগুনা সদরে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৬ জন।

আইইউবিতে ‘আউটব্রেক অ্যালার্ট: প্রটেক্টিং আওয়ার কমিউনিটি ফ্রম মিসেলস’ সেমিনারে হামের প্রতিরোধ, লক্ষণ ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। বক্তারা টিকাদানের গুরুত্ব ও সঠিক চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চলমান প্রাদুর্ভাবে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে হামজনিত নিউমোনিয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করেছে। ইতিমধ্যে ৫৬টি জেলায় রোগ ছড়িয়েছে এবং অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল প্রকাশিত অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।