
ধ্বংসস্তূপের ভেতরেও আলো আঁকেন যে নারী
ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আর্ট বা শিল্প বেঁচে থাকারই একটি ভাষা, একটি অভিব্যক্তি। মারাহ খালেদ আল-জাআনিন সেই ভাষারই একজন একান্ত নিবিড় শিল্পী।

ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আর্ট বা শিল্প বেঁচে থাকারই একটি ভাষা, একটি অভিব্যক্তি। মারাহ খালেদ আল-জাআনিন সেই ভাষারই একজন একান্ত নিবিড় শিল্পী।

সেই অর্থে এই প্রদর্শনীকে বলা যায় জাগতিক ও মহাজাগতিকের মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধের শিল্পভাষা। রাজধানীর সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে এই শ্রদ্ধা নিছক আনুষ্ঠানিক নয়; বরং একজন শিল্পীর আত্ম–অনুসন্ধানী যাত্রার মধ্য দিয়ে আরেক শিল্পগুরুকে স্মরণ। গত ২৬ জুন শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ৫ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।

‘ভূমি গ্যালারি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সাফল্যের পর, এবার তিন প্রজন্মের ১০ শিল্পীর সমসাময়িক কালে আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ‘পারসিসটেন্স’ অর্থাৎ ‘সংকল্প’ নামে বিশেষ একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৯ জুন শুক্রবার। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে ও পরের অর্থাৎ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের আটজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীর সঙ্গে এ শতকের শূন্য ও ১০ দশকের অপেক্ষাকৃত তরুণ দুজন শিল্পীও এ প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই দুই শিল্পী সহিদ কাজী ও আবদুল্লাহ আল বশীর।

অনিন্দিতা অনির এই প্রদর্শনী তাই কেবল নারীর গল্প নয়; এটি স্মৃতি, সময়, শরীর, সম্পর্ক ও অস্তিত্বের এক দীর্ঘ যাত্রার দৃশ্যরূপ। পাথরের নীরবতার ভেতর তিনি শুনিয়েছেন নারীর বহু উচ্চারিত ও অনুচ্চারিত কাহিনি। আর সেই কাহিনি পড়তে পড়তে দর্শকের মনে হয়—এ যেন রংতুলিতে লেখা এক উপন্যাস, যার প্রতিটি অধ্যায় একটি পাথর, আর প্রতিটি পাথরের ভেতর লুকিয়ে আছে এক একটি জীবন।

৪৬টি কাজের ভেতরে মানুষের সুখ, স্বপ্ন, দুঃখবোধ ও ইতিহাস-ঐতিহ্য যেমন আছে তেমন আছে বিহ্বলতা এবং আশাহত বিমূঢ়তার প্রতিক্রিয়া। চার প্রজন্মের শিল্পীরা গুরু–শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও অপেক্ষাকৃত নবীনরা এযাবৎকালের শিল্পধারা থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত রেখেছেন এ প্রদর্শনীতে।

৪৯ নারী শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে ‘উইমেন ইন আর্ট ২০২৬’ শিরোনামে অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

লালমাটিয়ার কলাকেন্দ্র গ্যালারিতে শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ কিবরিয়া, মনিরুল ইসলাম ও রফিকুন নবীর ছাপচিত্র একই ছাদের নিচে এসেছে। এটা একটা প্রদর্শনী, কিন্তু ভাবতে গেলে এর চেয়ে বেশি কিছু।

‘বাংলার বুদ্ধ: আমাদের পবিত্র সংঘ’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি এক নান্দনিক সাধনা, যেখানে শিল্প, দর্শন ও সমবেত চেতনা একত্রে মিশে যায়। সংঘের এই আলোকবর্তিকায় দাঁড়িয়ে আমরা উপলব্ধি করি—শিল্পের গভীরে নিহিত আছে মানবিকতা, নীরবতা ও আত্মজাগরণের এক চিরন্তন সম্ভাবনা।

ইফ্ফাত আরা দেওয়ানের ১৯৯৭ সালের ‘অপরাজিতা’ চিত্রকে কেন্দ্র করে শিল্পাঙ্গনের আয়োজনে গ্যালারি দ্য ইলিউশনসে চলছে প্রদর্শনী। ১৯৯৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অঙ্কিত শিল্পকর্মগুলোতে সরলতা, শূন্যতা ও অন্তর্মুখী অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রদর্শনী ১ মে থেকে ১৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত খোলা।


বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পচর্চায় আজ একদিকে রয়েছে বাস্তবানুগ বা ফটোগ্রাফিক দক্ষতার প্রতি প্রবল আকর্ষণ, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে আত্মস্থ করে সেটিকে নতুন নন্দনভাষায় রূপ দেওয়ার প্রবণতা। রাজধানীর গ্যালারি কায়ার ২২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দলগত প্রদর্শনীটি দ্বিতীয় প্রবণতার এক বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ মানচিত্র হাজির করেছে। প্রদর্শনীতে ৪৫ জন আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পীর ৭৩টি নির্বাচিত শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ১৯৫৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশকের শিল্পযাত্রাকে একত্র করেছে এই আয়োজন।

১৯৪০ থেকে ১৯৬০–এর দশকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন প্রজন্মের এই আট শিল্পীর প্রত্যেকের কাজে নিজস্ব ভাষা ও অভিজ্ঞতার প্রাধান্য রয়েছে।