
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার কী হবে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতিরা সরাসরি যোগ দিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে জ্বালানি জাহাজ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়বে। কূটনৈতিক চেষ্টা চললেও যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও ঈদ ছুটির কারণে মার্চ মাসে বাংলাদেশের পিএমআই ৫৩.৫ পয়েন্টে নেমেছে। উৎপাদন খাতের মন্দা অর্থনীতির গতি কমিয়েছে। স্থিতিশীলতা ফিরলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম মাসে বাংলাদেশে ১১টি জাহাজে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল এসেছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে ২২ হাজার টন ডিজেল পাওয়া গেছে। নির্ধারিত ৮টি জাহাজ না পৌঁছানোর কারণে সরবরাহে চাপ পড়েছে।

১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন বিশ্ব প্রথম বড় জ্বালানি–সংকটের মুখোমুখি হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত খরচের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ঢালাও টাকা ছাপানো বন্ধ করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৫-২০ শতাংশ। নাড়ু-নিমকি থেকে স্যুভেনির, ইলেকট্রনিক্স পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পণ্যমূল্য বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও কিছু খাতে ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের এক মাসে দেশে ১১টি জাহাজে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি এসেছে, ভারত থেকে পাইপলাইনে ২২ হাজার টন ডিজেল। নির্ধারিত আটটি জাহাজ পৌঁছায়নি, সরবরাহে চাপ পড়েছে। বিপিসি বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ জোরদার করছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আতঙ্কে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, ফিলিং স্টেশনে লাইন লম্বা। সরকার ফুয়েল কার্ড ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করছে, তবে মজুত রোধে আরও পদক্ষেপ দরকার। বিপিসি জানায়, মজুত যথেষ্ট আছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে। জ্বালানি সংকট, ব্যয় বৃদ্ধি ও কমে যাওয়া ক্রয়াদেশে চাপ বাড়ছে শিল্প ও শ্রমবাজারে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটে সন্ধ্যা সাতটায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত বৈশাখের কেনাকাটায় বাধা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় বেচাকেনা সামান্য বেড়েছে কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পোশাক, মিষ্টি ও ইলিশের চাহিদা থাকলেও ভোক্তারা খরচ কমিয়েছেন।

সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।