
এক কলসি পানি সংগ্রহ করতে তাঁদের খরচ প্রায় ৫০ টাকা
গত শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের মিয়াজানপুর গ্রামের ফকিরবাড়ির একটি গভীর নলকূপ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন গৃহবধূ।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের মিয়াজানপুর গ্রামের ফকিরবাড়ির একটি গভীর নলকূপ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন গৃহবধূ।

ববিতা রানী জানান, বর্ষা মৌসুমে পানি যাওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে পুকুরের পানিও থাকে না।

জরিনা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বাড়ির পাশে নলকূপ ছিল। পানির জন্য কোনো কষ্ট ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।

বিলকিস জানান, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।

ইউআইইউতে ‘ওয়াটার রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক সেমিনার গত শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

‘ভোরবেলায় পানি একটু পাওয়া যায়। তা–ও বারবার চাপ দিয়ে এক বালতি তুলতে হয়। কোমরকানি লাগে, ব্যথা হয়।’

দেশে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মধ্যে বরাদ্দ বৈষম্য কিছুটা কমলেও তা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়ে গেছে।

গ্রামের মেঠো রাস্তার পাশে সাবমার্সিবল পাম্পের সাহায্যে তোলা পানি একটি ট্যাংকে সংরক্ষণ করা আছে।

রেণু বেগম জানান, টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক। হাত–পায়ে ঘা হয়। তাই কাপড় কাচা ও গোসলের কাজে নদীর পানি ব্যবহার করেন তিনিসহ এলাকার অনেকেই।

এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ টেকনাফ ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে।

‘ঠা ঠা বরিন্দ’—রুক্ষ ও শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলের এই পরিচিতি সবচেয়ে বেশি মিলে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সঙ্গে।

হাওরের ডোবা থেকে জলভরা একটি কলসি কাঁখে আর হাতে আরেকটি জগ নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে এভাবেই পানির কষ্টের কথা বলছিলেন রমিলা বেগম (৫১)।