
বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরাতে হবে
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ—এটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা ন্যায়বিচারের সংকটের একটি প্রতিফলন।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ—এটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা ন্যায়বিচারের সংকটের একটি প্রতিফলন।

এ সময় দ্রুত ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করতে তদন্তকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রফিউর রাব্বি।

একজন মানুষ যদি পাঁচ বছর ধরে কোনো বিচার ছাড়াই জেলে থাকেন, সেটি কি স্বাভাবিক? সুপ্রিম কোর্ট যদি তাঁকে জামিন না দিয়ে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে বলে, তাহলে কি সেখানে কোনো সমস্যা নেই।

শেখ হাসিনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও তার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি।

ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচারের প্রবণতা ন্যায়বিচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সঠিক তদন্ত এবং সমাজে সচেতনতা গঠন জরুরি

নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সেখানে একজন সংসদ সদস্যের ছেলেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা রাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা, পুলিশের ক্ষমতার প্রয়োগ এবং আইনের শাসনের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

নারায়ণগঞ্জে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৮ মাসে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, হত্যাকারীরা বিদেশে রাজকীয় জীবন যাপন করছে। বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান উপকরণ হলো আইন ও বিচারব্যবস্থা। কিন্তু যখন সেই ব্যবস্থাই অসাধু চক্রের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয় না, বরং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট হলো বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা। প্রতিবছর নতুন নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে আদালতে বছরের পর বছর ধরে লাখো মামলা বিচারাধীন থেকে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা শুধু বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।

শিশির মনির বলেন, আইনি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারই প্রতিফলন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে বিচারব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘যেখানে সুবিচার নেই, সেখানে বিচার চাই না।’ ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে আদালতে।

নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘দ্য ইনভেস্টিগেশন অব লুসি লেটবি’ আবারও প্রশ্ন তুলেছে—আদৌ কি তিনি দোষী, নাকি ভুল বিচারব্যবস্থার শিকার?