
প্রবৃদ্ধি ফেরাতে চাই কার্যকর সংস্কার ও বাজেট বাস্তবায়ন
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই মন্থর অবস্থায় রয়েছে। নতুন অর্থবছরে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আবার গতিশীল হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই মন্থর অবস্থায় রয়েছে। নতুন অর্থবছরে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আবার গতিশীল হয়ে ওঠে।

ইউরোপের বড় বড় অর্থনীতির দেশ—জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা ইতালি—যেখানে মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও ধীর প্রবৃদ্ধির চাপে নানামুখী সংকট মোকাবিলা করছে, সেখানে তুলনামূলক ছোট দেশ আয়ারল্যান্ড যেন ভিন্ন এক অর্থনৈতিক ছন্দে এগিয়ে চলেছে।

এক বছরের ব্যবধানে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সোয়া ১৩%। বেসরকারি খাতের ব্যাংকের এই হার ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি ১.২৭ শতাংশ।

চীনের অর্থনীতির যে আকার বা তার যে নিকট অতীতে প্রবৃদ্ধি, তাতে এই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট না হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তা খারাপ নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে। জ্বালানিসংকট প্রকট হচ্ছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাগুলো।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। স্থানীয় উৎপাদন, হাই-সিসি বাইক, ইলেকট্রিক ভেহিকেল এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন সিএমও শাহ মুহাম্মদ আশিকুর রহমান। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের জিডিপির এই তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, এমন প্রত্যাশা বিশ্বব্যাংকের।

গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত দুই দশকের তথ্য অনুসারে, এত কম প্রবৃদ্ধি আর কখনো দেখা যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশের জিডিপিতে ১.১% ক্ষতির আশঙ্কা করে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বিশ্বব্যাংকও ৩.৯% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। জ্বালানি সংকট শিল্প, রপ্তানি ও দারিদ্র্য হ্রাসে বাধা সৃষ্টি করছে।