
দেশে দেশে রমজানে যত প্রথা
রমজানকে অনেক দেশে সাজসজ্জার মাধ্যমে বরণ করা হয়। রেওয়াজটি চলে আসছে বহু আগে থেকে। এই সজ্জার একটি উপকরণ লন্ঠন।

রমজানকে অনেক দেশে সাজসজ্জার মাধ্যমে বরণ করা হয়। রেওয়াজটি চলে আসছে বহু আগে থেকে। এই সজ্জার একটি উপকরণ লন্ঠন।

কুয়ালালামপুরের কাম্পুং বারু মসজিদে প্রতিদিন বড় বড় ডেকচিতে খিচুড়ি রান্না করা হয়। আসরের পর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ ‘বুবুর লাম্বুক’ সংগ্রহ করেন।

প্রত্যেকের দস্তরখানে নিজের তৈরি খাবারের চেয়ে প্রতিবেশীদের থেকে আসা খাবারের পরিমাণই বেশি থাকে। এটি সিরীয় সমাজের সংহতি ও সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ।

ক্যাম্পেইনের মূল স্লোগান হলো—‘একটি খেজুরের জন্য একটি জীবন হারাবেন না’। কেননা, ইফতারের পূর্বে জর্ডানিরা প্রচণ্ড গতিতে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন।

অনেক ক্ষেত্রে পণ্য বিক্রি করা হলেও তার দাম রাখা হয় আকাশচুম্বী। চাল, ডাল বা তেলের মতো সাধারণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতেও তাদের গোপনে বা অন্যের সাহায্য নিয়ে বাজারে যেতে হয়।

ইথিওপিয়ার রমজান কেবল মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজধানী আদ্দিস আবাবায় দেখা যায় যেখানে খ্রিষ্টান প্রতিবেশীরা তাদের মুসলিম সহকর্মীদের জন্য ইফতারের খাবার তৈরি করে আনছেন।

যেখানে বিশ্বের অনেক দেশে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, সেখানে আফগান সরকার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে দাম কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, পবিত্র রমজান মাসে মাথায় যে নতুন চুল গজাবে, তা সারা বছরের জন্য বিশেষ বরকত বা কল্যাণ বয়ে আনবে।

নীল নদ আর পিরামিডের দেশ মিসর। মিসরিদের কাছে রমজান মানে ‘ফানুস’, ‘মাদফা’ (ইফতারের কামান) আর পাড়া-পড়শির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এক দীর্ঘ দস্তরখানের গল্প।

রমজানের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে বাহরাইন মেতে ওঠে কুরকাউন উৎসবে। শিশুরা ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায় এবং লোকসংগীত গায়।

কোরআন রমজানে এখানকার প্রতিটি মসজিদ মুখরিত থাকে কোরআন তিলাওয়াতে। বিশেষ করে শিশুদের উৎসাহিত করার জন্য পাড়ায় পাড়ায় হাফেজদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জার্মানির শহরগুলোতে এখন আর ইফতার কেবল ঘরের চার দেয়ালে বা মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়েছে রাজপথে, এমনকি চার্চের আঙিনাতেও।