
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন কমেছে
চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। তবে কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে। তবে কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে টপকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের রপ্তানি ৫৭.৬৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের সাড়ে ৮ শতাংশ কমেছে। ভিয়েতনাম শীর্ষে রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কম দামের প্রতিযোগিতা ছাড়িয়ে তথ্যভিত্তিক, নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল সরবরাহে যেতে বাধ্য। পণ্যের উৎস, শ্রম অধিকার, পরিবেশগত তথ্য ও প্রমাণপত্র এখন ক্রেতাদের প্রধান বিবেচ্য। এটি ঝুঁকি ও সুযোগ দুটোই, সঠিক প্রস্তুতি নিলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা কম দাম থেকে সরে নির্ভরযোগ্য, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সরবরাহের দিকে যাবে। ক্রেতারা উৎস, শ্রম অধিকার, পরিবেশগত তথ্য ও প্রমাণপত্রের ওপর জোর দেবেন। এটি খাতের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই।

ইইউর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে যে তৈরি পোশাক কেনা কমিয়েছেন, তার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ কম কিনেছেন।

ভারতীয় সুতায় ২০ শতাংশ সেফগার্ড শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। বিরোধিতা করছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ কমেছে বলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে বিজিএমইএ নেতারা সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। মন্ত্রীরা প্রস্তাবগুলো শুনে সংকট সমাধানে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সাশ্রয়ী দাম ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের কারণে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা দেওভোগ থেকে পোশাক কিনে নেন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, তৈরি পোশাক খাত সিবিএএমের আওতায় আসার আগেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় এরই মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চীনের রপ্তানি ৫৩ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চে বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের পোশাকপল্লির পাইকারি বাজারে বেচাকেনা জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা পোশাক কিনতে আসছেন।

বৈঠকে ঈদের আগে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মজুরিসহায়তা বাবদ দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থের ঋণসুবিধা দিতে গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়।