
দানিল খার্মসের ১০টি অ্যাবসার্ড গল্প
লেনিনগ্রাদে থাকাকালে তিনি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে বহিষ্কৃত হন। কারণ ছিল তাঁর ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার অভাব’।

লেনিনগ্রাদে থাকাকালে তিনি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে বহিষ্কৃত হন। কারণ ছিল তাঁর ‘সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার অভাব’।

আমি তখন এমন অবস্থায় ছিলাম যে ভাগ্য মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না। মাথা নিচু করলাম। তখনো বুঝতে পারিনি যে আমি এক ভয়ঙ্কর ফাঁদে পা দিয়েছি—

অল্প সময়ের মধ্যেই সে সেই বাক্সের ভেতরেই বড় হতে শুরু করল। প্রতিবছর শেষের বালিশ থেকে একটু করে তুলা বের করে দেওয়া হতো, যাতে তার বৃদ্ধির জন্য জায়গা তৈরি হয়।

ভেতরে–ভেতরে আমি বেশ উত্তেজনা অনুভব করলাম। কয়েক মিনিট! আর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই দেখা হবে তাঁর সাথে! টের পেলাম, হাত ঘামছে আমার। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের চারপাশে তাকালাম। বসার ঘর। কোনো জাঁকজমক নেই। নেই কোনো দামি আসবাব। শুধু ঘরে আছে এক সেট সোফা। পুরোনো আমলের। সেই সোফায় আমি বসেছি। আমার সামনে বেতের তৈরি টি–টেবিল। তবে এসব সাধারণ আসবাবই আমাকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলল। এত বড় লেখক!

শহরের এক উঁচু স্মার্ট টাওয়ারের ৪৩ তলায় আমাদের বসবাস। এখানকার প্রায় সব নির্জীব বস্তুই তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আমাদের আরাম–আয়েশের জন্যে। আমার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ঘরের দেয়ালের স্বচ্ছতা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। ভোরের সূর্যের মোলায়েম আলো অল্প অল্প করে ঘরে ঢুকতে শুরু করেছে।


রাস্তা পার হতে গেলে কারা যেন তাকে থামিয়ে দেয়। তার পরপরই একপশলা ধুলো উড়িয়ে মোটরগাড়ি শাঁ করে বেরিয়ে যায়। ঠান্ডুর সারা মুখে ধুলার প্রলেপ পড়ে। ছোটবেলায় বড় রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলে গেলে তার উড়িয়ে দেওয়া সাদা ধুলো মাখার জন্য ঠান্ডু আর তার বন্ধুরা সেই ধুলোর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কী সুন্দর সে ধুলোর গন্ধ! পাউডার কোন ছার! আজও ধুলোর পাউডার মেখে ঠান্ডু দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এই ধুলোর গন্ধে সে ছেলেবেলায় ফিরে যায় না, তার মাথা ঘুরে ওঠে, হাত থেকে জুতা জোড়া ফসকে যায়।

ফার্মগেটে ব্যাংক কর্মী রোকনের পায়ের রোগ জীবনকে জর্জরিত করছে। অদ্ভুত গন্ধের অনুভূতি, ঘুমহীন রাত, ফ্যান্টম লিম্ব সিনড্রোমের ছায়া। রাহেলার স্মৃতি নিয়ে বান্দরবানের যাত্রায় শেষ ধাপে পা হারাল রোকন।

মোতালিবের দিশাহারা কানে এসব কথার কিছুই পৌঁছায় না। তার হঠাৎ মনে হয়, হাত–পা অবশ হয়ে তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। কালো সড়কটা এইবার বড় হতে হতে তার বুকের ওপর দিয়ে রক্ত, মাংস, হাড়, পাঁজর গুঁড়ো করে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে।

‘তাই মধুতে মাসাকিচির থাবা ভরে যায়—এত বেশি মধু যে সে একা খেয়েও শেষ করতে পারে না। সে তাই মধুগুলো একটা বালতিতে ভরে নেয়।

মায়া বলল, ‘স্যার,আমি একটা গল্প শোনাতে চাই আপনাকে। এটা আমার জীবনের গল্প নয়, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার ভেতর থেকেই জন্মেছে।’

সেদিন আমি চিকেন টিক্কা-তন্দুরি কিনতে গেছিলাম, নাকি চিকেন ঝাল ফ্রাই আর পরোটা, তাতে কিছুই যায় আসে না। আসল কথা হলো, রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমি কী শুনেছিলাম।