
এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্যচুক্তির ফাঁদে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ কীভাবে এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্যচুক্তির ফাঁদে পড়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন মাহা মির্জা

বাংলাদেশ কীভাবে এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্যচুক্তির ফাঁদে পড়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন মাহা মির্জা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে এলডিসি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। আগের সরকারের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠলে চিন্তা করা হবে। বিএনপি সরকার ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘকে সময়সীমা পেছানোর চিঠি পাঠিয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার প্রশ্নটি।

এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময়কাল একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে, এমনটাই বলেছে নতুন সরকার।

ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে ২৬ মার্চ ডব্লিউটিওর চতুর্দশ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল ঢাকা ছেড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হবে না। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করে দিয়েছে।

যে সচিব এখন উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন, তিনিই নভেম্বর মাসের চিঠিতে বলেছিলেন, সবকিছু ঠিক আছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদ গত বছরের মার্চে উত্তরণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পাল্টিয়ে এখন নতুন করে বলতে হবে যে দেশে অভাবিত ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

‘উন্নয়নের রোল মডেল’, ‘২০৪১ সালে উন্নত দেশ’—এই স্লোগানগুলো তৈরি হয়েছে এই গ্র্যাজুয়েশনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আখ্যান নির্মিত হয়েছিল, সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? হোয়াইট পেপার বা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ‘উন্নয়নের গল্প পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যতিক্রমী ছিল, কিন্তু সেগুলো ছিল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’।

এলডিসি উত্তরণের আগে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে হবে জরুরি বলে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার মন্তব্য করেছেন। তৈরি পোশাক খাতে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর এবং বিপুল টেক্সটাইল বর্জ্যকে ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তনের ওপর জোর দেন বিভিন্ন বক্তা। সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও লজিস্টিক খরচ কমানোর প্রস্তুতি তুলে ধরেন।

এনবিআর জানায়, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে শুল্কের অবদান ছিল ২৭ শতাংশ। কঠোরভাবে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং দমন করা হবে।