
আলু উৎপাদনে শীর্ষে রংপুর রপ্তানিতে পিছিয়ে কেন
দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল রংপুর হলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক চাষের অভাব, উপযুক্ত জাতের ঘাটতি, সংরক্ষণ সংকট ও কম দামের কারণে কৃষকের আগ্রহ কমছে—সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাড়ছে না রপ্তানি।

দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল রংপুর হলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক চাষের অভাব, উপযুক্ত জাতের ঘাটতি, সংরক্ষণ সংকট ও কম দামের কারণে কৃষকের আগ্রহ কমছে—সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাড়ছে না রপ্তানি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে রপ্তানিতে একক পণ্য ও একক বাজারনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠাটা জরুরি।

উত্তরাঞ্চলের আলুচাষিদের জন্য চলতি মৌসুম যেন একের পর এক দুঃসংবাদ নিয়ে হাজির হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাজারে আলুর দাম তলানিতে, তার ওপর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় আলুখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাজশাহীতে আলুর ভালো ফলন সত্ত্বেও বস্তাসংকটের কারণে কৃষকরা বিপর্যস্ত। সিন্ডিকেটের কৃত্রিম জাঁতায় দাম পড়ছে, চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। সরকারের হস্তক্ষেপের জন্য দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ংক্রিয় আলু বাছাইকরণ যন্ত্র নিয়ে কর্মশালায় দেখানো হয়েছে ঘণ্টায় ৫০০ কেজি আলু বাছাইয়ের ক্ষমতা, কেজিপ্রতি খরচ মাত্র ১২ পয়সা। এই প্রযুক্তি আলু রপ্তানি ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবে। গবেষকরা জানান, তৃতীয় সংস্করণে গতি ও নির্ভুলতা বেড়েছে।

আলু চাষ করে গত মৌসুমে লোকসান গুনেছিলেন চন্দনাইশের কৃষক মো. হারুন। তাই এবার ঝুঁকি কমাতে জমি কমিয়েছেন। ২০ শতক জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০ কেজি আলু তুলেছেন মাঠ থেকে। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে দেখেছেন, হিসাব মিলছে না।

রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি গত বুধবার জেলার পবা উপজেলার তকিপুরে তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আলু কেনাবেচা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

গত বছর আলু চাষ করে বড় লোকসান গুনেছেন মাসুম মিয়া। ১০ একর জমিতে আলু চাষ করে লোকসান হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।

সরকার ঘোষিত দামে আলু বিক্রি না হওয়ায় হিমাগার ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে পারছেন না চাষিরা। এর প্রভাবে চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আলু চাষ কমেছে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে।

হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন রংপুরের আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা সড়কে আলু ঢেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।

জয়পুরহাটে আলু চাষে সাম্প্রতিক ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা তুলে ধরেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন রংপুরের তারাগঞ্জের কৃষকেরা। সংরক্ষণের সংকট ও বাজারদরের ধসের কারণে লোকসানের বোঝায় দিশাহারা চাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ও সরকারি ক্রয়ের দাবি জানিয়েছেন।