
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: আজকের ইরানকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি
খামেনি ইরানের “প্রতিরোধ অর্থনীতি” গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিয়েছিলেন, যাতে কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও স্বনির্ভরতা বাড়ানো যায়।

খামেনি ইরানের “প্রতিরোধ অর্থনীতি” গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিয়েছিলেন, যাতে কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও স্বনির্ভরতা বাড়ানো যায়।

আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এটা ১৯৮৯ সালের খোমেনির শেষযাত্রার প্রায় এক কোটি মানুষের উপস্থিতিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কে এই মোজতবা খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

প্রথমবারের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করা যায় না।

ইরানে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপ যাঁরা সমর্থন করে আসছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন—ইরানের বিদ্যমান সরকার দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক ক্ষয় ও সামাজিক স্থবিরতার মধ্য দিয়ে পুরো দেশের যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে, তা বাইরের দেশের সহিংস বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার চার মাস পর ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে তাঁর দাফনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।

মোজতবা খামেনির ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেনি; ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও সরব হয়নি।

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি পরিবারের একজনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়া সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি প্রয়াত আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ‘কয়েক হাজার’ মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে জড়িত অপশক্তি দায়ী।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোল মাদুরোকে ধরে আমেরিকায় এনে বিচার করা, আর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হত্যা করা—এই দুই ঘটনা আলাদা অঞ্চলে ঘটলেও একসঙ্গে পড়লে একটা বড় প্রশ্ন সামনে আসে।