পাবনার ঈশ্বরদীতে মেডিক্যাল গ্যাস পাইপলাইন সরঞ্জাম কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে। তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেগাসান’ ও ‘মেগাসান বাংলাদেশ’ যৌথভাবে উপজেলার অরণকোলা এলাকায় ‘মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে। আজ শনিবার দুপুরে কারখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

আজ কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘দেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হলে আমদানির নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাত আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

অনুষ্ঠানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেগাসান বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদুল হাসান। এ সময় অন্যদের মধ্যে মেগাসান তুরস্কের ভাইস চেয়ারম্যান হায়রেত্তিন সিলেকতিন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা, পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তারা জানান, তুরস্কের বিখ্যাত চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেগাসানের আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ ২৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে মেগাসানের তৈরি বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জাম তৈরি ও সংযোজন করা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সরঞ্জাম হচ্ছে মেডিক্যাল গ্যাস সরবরাহ ও পাইপলাইন ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও সংযোগ ইউনিট, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, বেড হেড প্যানেল ও পেন্ডেন্ট সিস্টেম এবং আধুনিক সতর্কীকরণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করাকে তাঁরা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে তুরস্কে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বৈশ্বিক বাজারে চিকিৎসা প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানিও করা হবে।