ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংকট বেড়েই চলেছে। দলের মধ্যে বিবাদ–বিভক্তি প্রকট হয়ে উঠেছে। দলের সেই বিভক্তিতে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যের সাবেক তৃণমূল সরকারের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সভাপতি হওয়ার পর এক মাস যেতে না যেতেই আজ শনিবার তিনি পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে দলের সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বিধানসভায় হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস মূলত দুই ভাগ হয়ে গেছে। একভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অন্যভাগে বিদ্রোহীদের গড়া নয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে রয়েছেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ঋতব্রত অংশের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে বসানো হয়েছে অরূপ রায়কে।
তৃণমূলে বিদ্রোহ শুরু হলে মমতা বন্দোপাধ্যায় গত ৩ জুন রাজ্য কমিটির সভাপতি পদে বসান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। এবার অবশ্য চিন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভা নির্বাচনে দমদম উত্তর আসনে বিজেপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ইতিমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র মমতার কাছে পাঠিয়েছেন মমতার কাছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পদও ছেড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্যাংকসহ নির্বাচন কমিশন এবং দলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের জন্য তাঁর স্বাক্ষর দেওয়ার অধিকারও তিনি ছেড়ে দিয়েছেন।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজের ঘাড়ে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। যদিও ইতিমধ্যে রাজ্যে খবর রটেছে, গতকাল বিকেলে ঋতব্রতের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা যখন কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত দলীয় কেন্দ্রীয় দপ্তর তৃণমূল ভবন দখল করেছিল, তখন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সেই দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্রোহীরা তৃণমূল ভবন দখল করার পর তিনি ওই ভবন থেকে বেরিয়ে যান।
এ ঘটনার পর তৃণমূলের কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, চন্দ্রিমাই বিদ্রোহীদের হাতে দলীয় দপ্তর তুলে দিয়েছেন। এসব কথাবার্তায় প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এসব কথা হজম করতে না পেরে দলের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট থাকবে। অবশ্য এর আগে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ বসু তৃণমূলের বিদ্রোহী দলে নাম লিখিয়েছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের বিদ্রোহীরা কার্যালয় দখলের পর মানসিক কারণে পদত্যাগ করেছেন। রাজ্য সভাপতির পদ ছেড়েছেন।






