রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের রিকশাভ্যান চালকের মেয়ে মমিনা খাতুন। দারিদ্র্য একসময়ে তাঁর পড়াশোনার পথে বাধা হয়েছিল। তবে অদম্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং ব্র্যাক ব্যাংক-মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী বৃত্তির সহায়তায় সেই বাধা অতিক্রম করে তিনি এবার ৪৭ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

মমিনা খাতুনের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চকেরডাঙ্গা কুঠিয়ালপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা আতিয়ার রহমান পেশায় একজন রিকশাভ্যান চালক।

মমিনা স্থানীয় পাঠানপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে ২০১৭ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পান। উচ্চশিক্ষায় তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন।

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পরে অর্থাভাবে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ঠিক সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়ায় ব্র্যাক ব্যাংক-মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল। স্নাতক পর্যন্ত তাঁর শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহনে বৃত্তির মাধ্যমে সহায়তা করে এই তহবিলটি। সেই সহায়তাই তাঁকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত রোববার প্রকাশিত ৪৭ তম বিসিএসের ফলাফলে মমিনা খাতুন প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

নিজের এই সাফল্যের পেছনে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে মমিনা বলেন, 'মুক্তকণ্ঠের বৃত্তি না পেলে হয়তো আমার পড়াশোনার পথই বন্ধ হয়ে যেত। মুক্তকণ্ঠের সাবেক বদরগঞ্জ প্রতিনিধি আলতাফ হোসেন দুলাল আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। মুক্তকণ্ঠের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ভবিষ্যতে সুযোগ হলে আমিও আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।'