নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক ও সহযোগী মো. জামশেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন আরাফাতের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আসামি জামশেদের কাছ থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছেন। আজ তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

.

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি জামশেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে কার্যকরের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জামশেদকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১। এর পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দী আছেন। আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আওলাদ হোসেন, জিয়াউল ইসলাম ও প্রদীপ ঘোষ।

.

বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিলের আগে মামলার সাক্ষ্য-স্মারকলিপি প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সার্বিকভাবে কারা কারা যুক্ত ছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা আরও তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করার নির্দেশ প্রদান করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি জামশেদকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

.ত্বকী হত্যা মামলায় ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ.

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত (ভ্রমর) এবং ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করে। অচিরেই র‍্যাব অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও দাখিল করা হয়নি।