মেক্সিকো ২–০ দক্ষিণ আফ্রিকা
ভারি খাবারের আগে অনেক সময় ‘এপিটাইজার’ খেতে হয়। তাতে খাওয়ার রুচিটা বাড়ে। জমজমাট উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে গ্যালারিতে আনন্দের পারদ একটু চড়িয়ে নেওয়ার পর তেমনকিছুর অপেক্ষাতে ছিলেন মেক্সিকানরা। ম্যাচটা কখন শুরু হবে!
মেক্সিকানরা জানত, বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী ম্যাচ তাদের জন্য আসলে ‘অভিশাপ।’ সেই ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে এর আগে সাতবার উদ্ধোধনী ম্যাচ খেলে একবারও জিততে পারেনি। কিন্তু গ্যালারির ‘মেক্সিকান ওয়েভে’ তেমন কোনো শঙ্কার লেশ ছিল না। সমর্থকেরা হয়তো মনে মনে ভরসা রেখেছিল আজতেকা স্টেডিয়ামের অতীতে। এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে মেক্সিকো কখনো হারেনি। সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই জয়, দুটি ড্র। অতএব, ঘরের মাঠে ৮৩ হাজার সমর্থকের সামনে এবার অন্তত অভিশাপটা কাটানোই যায়।
ঘটলও ঠিক তাই। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ঘরের দর্শকদের আনন্দের রেশ কাটতে দেননি রাউল হিমিনেজরা। ম্যাচ শুরুর ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে প্রথম গোল, ৬৭ মিনিটে আরেকটি। শেষ পর্যন্ত এই ২–০ গোলের জয়েই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ৯৬ বছরের ইতিহাসে উদ্ধোধনী ম্যাচে প্রথম জয় পেল মেক্সিকো। শুধু তাই নয়, রেকর্ডও হয়েছে একটি। ম্যাচটি ছিল তিন লাল কার্ডের। বিশ্বকাপে উদ্ধোধনী ম্যাচের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ!
দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। ২০১০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হয়ে উদ্ধোধনী ম্যাচে এই মেক্সিকোকেই ১–১ গোলে আটকে দিয়েছিল ‘বাফানা বাফানা’রা। ১৬ বছর পর এবার বিশ্বকাপে ফিরে উদ্ধোধনী ম্যাচেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করল তারা। সেটাও শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দলে পরিণত হয়ে!
মেক্সিকোও অবশ্য ১১ জন নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। যোগ করা সময়ের ২ মিনিটে (৯২) সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মেক্সিকোর সেন্টার ব্যাক সিজার মন্তেস। তার আগে ৫০ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। এরপর ৮৪ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে বলতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছে মিডফিল্ডার ছাড়াই!
বিস্তারিত আসছে...।






