মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একাত্তর টেলিভিশনের লাইসেন্সের কপি চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত সোমবার একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) বরাবর এ চিঠি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কো-কোঅর্ডিনেটর মুহম্মদ শহীদুল্যাহ্ চৌধুরী। মুক্তকণ্ঠের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে শহীদুল্যাহ্ চৌধুরী এ বিষয়ে শাপলা চত্বরের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতেহ্ মো. ইফতেখারুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ফতেহ্ মো. ইফতেখারুল আলম আজ মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। একাত্তর টিভি যখন লাইসেন্স নেয়, তখনো জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা হয়নি। লাইসেন্সের শর্তাবলিতে কী লেখা আছে, এটি জানা প্রয়োজন। সে জন্য লাইসেন্সের কপি চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, তদন্ত সংস্থা চিঠিতে বলেছে, বর্ণিত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতেহ্‌ মো. ইফতেখারুল আলম… মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ৭১ টিভির লাইসেন্সের কপি এবং লাইসেন্স–সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ডকুমেন্টস (নথি) চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনপত্রটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় উল্লিখিত বিষয়ে ঐকান্তিক ও সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।

শাপলা চত্বরের মামলায় মোজাম্মেল হক বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা গ্রেপ্তার আছেন।

একই মামলায় গ্রেপ্তার আছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে পলাতক আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।

এ মামলায় এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।