‘পাঠকের প্রশ্ন’ বিভাগে আইনগত সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন পাঠান পাঠকেরা। নির্বাচিত প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা।
.বিয়ের পর কোনো নারীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখলে এবং কাবিনের অর্থ পরিশোধ না করলে বাংলাদেশের আইনে কী করণীয়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
মুসলিম আইনে বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি। মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী দেনমোহর একটি অন্যতম শর্ত। দেনমোহর স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে পরিশোধযোগ্য একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।
কাবিননামা বা নিকাহনামা বিয়ের একমাত্র লিখিত প্রামাণ্য দলিল। বিয়েসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় এটির প্রয়োজন হয়। কাজেই আইনগতভাবে দেনমোহরের যে পরিমাণ কাবিননামায় উল্লেখ করা থাকবে, সেটা পরিশোধ করতে স্বামী আইনত বাধ্য।
দেনমোহরের যে অংশ বিয়ের সময় পরিশোধ (উসুল) করে দেওয়া হয়, সেটা তাৎক্ষণিক দেনমোহর। কাবিননামার ক্রমিক নম্বর ১৫ কলামে এই সম্পর্কে বলা আছে। বাকিটা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে ধরা হয়।
তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করতে হয়। আর বিলম্বিত দেনমোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধ করা যায়। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হয়।
.দেনমোহর একটি আইনি ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা, যা সাধারণত নগদ টাকা বা অন্য কোনো অনুমোদিত সম্পদ যেমন সোনা, গয়না বা সম্পত্তি দিয়ে পরিশোধ করতে হয়।
আপনি প্রশ্নে খোলাসা করেননি, এটা আপনার নিজের সমস্যা কি না।
যদি নিজের হয়, তাহলে আপনি স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর দাবি করেছেন কি না বা কোনো ভরণপোষণ পান কি না, সেটা জানা দরকার। যদি না পেয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আপনি তাঁর কাছে তা দাবি করবেন। যদি তিনি দেনমোহর বা ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আপনি পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ দাবি করে মামলা করতে পারেন।
আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের যে প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন, সেটা দিয়ে আপনাদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ঠিকঠাক সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
.পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ই–মেইল ঠিকানা: adhuna@prothomalo.com (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)
ডাক ঠিকানা : প্র অধুনা, মুক্তকণ্ঠ, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)
ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA
.এক বছর সংসার করেই বিচ্ছেদ চাইছেন স্বামী, আইনি প্রক্রিয়া জানুন





